২৭ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীতে ধূমপান নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে আহত ৬

নোয়াখালীতে ধূমপান নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে আহত ৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রকাশ্য স্থানে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রবীণদের সাথে বিরোধের জেরে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে একদল যুবক। দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চালানো এই হামলায় অন্তত ৬ জন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই যুবককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই দুজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। দেওটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রাসেদ ও রেদোয়ানসহ কয়েকজন যুবক স্থানীয় একটি দোকানের সামনে সিগারেট কিনে ধূমপান করছিল। এ সময় এলাকার কয়েকজন মুরব্বি ও বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ জনসম্মুখে ধূমপান করতে বাধা দিলে যুবকদের সাথে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে পরদিন শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা রাশেদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র যুবক নোয়াগাঁও গ্রামে চড়াও হয়। তারা স্থানীয় যুবক নাহিদ ও নাঈমকে লক্ষ্য করে আচমকা গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নাহিদ ও নাঈমসহ আশপাশের অন্তত ৬ জন ছররা গুলিতে রক্তাক্ত হন।

গুলি বর্ষণের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এদের মধ্যে আশিক ও নাহিদ নামের দুই যুবকের শরীরে ছররা গুলির গভীর ক্ষত থাকায় তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার দুপুরে চিকিৎসকরা তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ধূমপান করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এই গুলির ঘটনা ঘটেছে। ছররা গুলিতে আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও একজনের পেট ও উরুতে গুলি লাগায় অবস্থা গুরুতর।"

সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা রাশেদকে প্রধান আসামি করে মোট ১২ জনের নাম উল্লেখসহ একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবকরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।