মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের স্বার্থরক্ষা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারে চীনের পক্ষ থেকে পূর্ণ ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মালয়েশিয়া ও চীনে পাঁচ দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা দেশে ফিরেছেন। এরপর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সফরের নানাদিক ও সফলতার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, "এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল মালয়েশিয়া এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নকে কীভাবে আরও বেগবান করা যায়। আমরা অত্যন্ত সফলভাবে সেই আলোচনা সম্পন্ন করেছি। এই সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।" তিনি আরও জানান, চীনের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আসা বিশেষ করিডরের প্রস্তাবকে বাংলাদেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যা দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাঁচ দিনের ব্যস্ত কূটনৈতিক সফর
গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই ছিল প্রথম বিদেশ সফর। গত রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সফরে প্রথমে মালয়েশিয়ায় যান তিনি। কুয়ালালামপুরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পরদিন সোমবার (২২ জুন) বিকেলে তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটির সরকারপ্রধানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরের শেষ ভাগে আজ শুক্রবার সকালে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সাথে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
দেশে প্রত্যাবর্তন
চীনের বেইজিংয়ে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাংলাদেশ সময় আজ বিকেল ৩টায় চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাত পৌনে ৮টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দেশে ফিরেছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরেই মালয়েশিয়া ও চীনের মতো দুই এশীয় পরাশক্তির সাথে এই ইতিবাচক বোঝাপড়া আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।