২৬ জুন, ২০২৬

নকআউটে মেসির আর্জেন্টিনার সামনে কোন প্রাচীর?

 নকআউটে মেসির আর্জেন্টিনার সামনে কোন প্রাচীর?

আলজেরিয়া আর অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে অনেক আগেই। টানা দুই জয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে নকআউট পর্ব, সেই সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মুকুটও। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের মুখোমুখি হওয়াটা আলবিসেলেস্তেদের জন্য এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। আর্জেন্টিনা শিবিরের পুরো মনোযোগ এখন অন্য জায়গায়—নকআউটে তাহলে কার মুখোমুখি হচ্ছেন লিওনেল মেসিরা?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ‘এইচ’ গ্রুপের এক জটিল গোলকধাঁধায়। একদিকে উরুগুয়ে বনাম স্পেন, অন্যদিকে কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব—আগামীকাল সকাল ছয়টায় শুরু হতে যাওয়া এই দুটি ম্যাচই ঠিক করবে আর্জেন্টিনার ভাগ্য। চার দলের এই গ্রুপে সমীকরণ এতটাই রোমাঞ্চকর যে, প্রতিটি সম্ভাবনার পেছনে লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার জন্য একদম ভিন্ন ভিন্ন এক রোমাঞ্চের গল্প।

ইতিহাসের ভার নাকি নতুনের রূপকথা?
একটা সময় কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছিল উরুগুয়েকে। লাতিন আমেরিকার এই চিরচেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচের মানেই ছিল ইতিহাসের ভার আর অভিজ্ঞতার এক চরম লড়াই। আবার হিসাবের চাকা সামান্য ঘুরলেই সামনে চলে আসতে পারে এখন গ্রুপের শীর্ষে থাকা স্পেন।

তবে সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিয়েছে এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলতে আসা এক দ্বীপদেশ—কেপ ভার্দে! আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপের এই দেশটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়। সমুদ্রের নোনা হাওয়া গায়ে মাখা দলটা ফুটবল মাঠে রুখে দিয়েছে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে। নকআউটের টিকিট পেতে তাদের সামনে শেষ বাধা সৌদি আরব। ম্যাচটা জিততে পারলেই রূপকথার নতুন অধ্যায় লিখে তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। তখন কিন্তু মেসিদেরও নির্ভার থাকার কোনো সুযোগ থাকবে না!

সৌদির সেই ‘ক্ষত’ নাকি চেনা দ্বৈরথ?
সমীকরণে টিকে আছে সৌদি আরবও। আর সৌদির নাম আসতেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে উঠছে কাতার বিশ্বকাপের সেই প্রথম ম্যাচের স্মৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল তারা। এবার যদি উরুগুয়ে শেষ ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে জিততে না পারে, আর সৌদিরা নিজেদের ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে দেয়, তবেই তারা হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ।

সেটি হলে ফুটবল বিশ্ব দেখবে এক অসমাপ্ত নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক। কাতার বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনা যতই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হোক না কেন, সৌদির কাছে সেই হারের একটা চোরা যন্ত্রণা তো মেসিদের মনে রয়েই গেছে। নকআউটের মঞ্চে কি সেই পুরোনো হারের মধুর প্রতিশোধ নিতে চাইবেন না মেসি-ডি পলেরা?

নকআউটের মহরণ শুরুর আগে ‘এইচ’ গ্রুপ যেন এক বারুদের স্তূপ। আগামীকাল সকালের সূর্য ওঠার পরেই জানা যাবে, এই স্তূপ থেকে কোন দল বুক চিতিয়ে বেরিয়ে এসে চ্যালেঞ্জ জানাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের!