২৫ জুন, ২০২৬

বড়াইগ্রামে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা

বড়াইগ্রামে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা

নাটোরের বড়াইগ্রামে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে বাধা দেওয়ায় জমির মালিকসহ তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর মৌজায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার (২৪ জুন) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। একই সাথে নিজেদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর মৌজার ২৭০০ হাল দাগে নাটোর-পাবনা মহাসড়ক সংলগ্ন ৫.৫২ শতাংশ জমি শাহীন খান ও তাঁর ভাইবোনেরা পৈতৃক সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মকছেদ আলী মন্ডল ও তাঁর সন্তানেরা জমিটি নিজেদের দাবি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার রায় শাহীন খানের পক্ষে গেলে প্রতিপক্ষরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। বর্তমানে উচ্চ আদালত ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা (যেই অবস্থায় আছে সেই অবস্থায়) বজায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মঙ্গলবার মকছেদ আলী ও তাঁর ছেলেরা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, ইট, বালু ও রডসহ জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দিতে গেলে মকছেদ আলীর লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে শাহীন খান (৪৭), তাঁর বৃদ্ধ বাবা আব্দুর রহিম খান (৭০) এবং মা জরিনা বেগম (৬৫) এর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মকছেদ মন্ডল মারধরের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “জমির মালিকানা নিয়ে তাদের দাবি সঠিক নয়, এই জমি আমাদের। সেজন্যই আমরা ঘর তুলতে গিয়েছিলাম।” তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে স্থিতাবস্থার মধ্যে কেন ঘর তোলার চেষ্টা করা হলো—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে; বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।