রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভিন্ন মতপ্রকাশের কারণে অতীতে এ দেশের বহু মানুষ গুম, খুন, অপহরণ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই অন্ধকার অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দেশে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে নোয়াখালীতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি র্যালি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
দৈনিক আমার দেশের জেলা প্রতিনিধি ও অধিকার-এর ডিফেন্ডার আজাদ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম ও বি ইউ এম কামরুল ইসলাম, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি লিয়াকত আলী খান, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ কামরুল, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ পারভেজ, নোয়াখালী টিভি সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি মানিক ভূঁইয়া, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক চলতিধারা সম্পাদক এম বি আলম এবং দৈনিক দিশারী সম্পাদক আকাশ মো. জসিমসহ স্থানীয় গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়ার আহ্বান
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সভ্য সমাজে কোনো নাগরিকের ওপর রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে ভিন্নমতাবলম্বী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বক্তারা অনতিবিলম্বে সকল প্রকার নির্যাতনের তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দিবসের প্রেক্ষাপট:
প্রতিবছর ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ১৯৮৪ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পর ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন তা কার্যকর হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর এই কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে, যা দেশের জাতীয় আইনে নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশে এই নির্যাতনবিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।