ঘানার রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে পারেননি হ্যারি কেইন বা ফিল ফোডেনরা। ম্যাচ শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। অথচ ম্যাচ শেষে ট্রফি হাতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হলো ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে। ট্রফিটা হাতে নিয়েও অবশ্য মুখে চিলতে হাসির বদলে ছিল কিছুটা বিস্ময় আর অকপট সততা।
সরাসরিই বলে দিলেন, “সত্যি বলতে এটা আমার প্রাপ্য নয়।”
বেলিংহামের মতে, এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি যদি কারও প্রাপ্য হয়ে থাকে, তবে তা ঘানার কোনো একজন ডিফেন্ডারের। যিনি বা যাঁরা পুরো ম্যাচ জুড়ে ইংলিশ আক্রমণভাগকে বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন।
বেলিংহামের এমন মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে—বিশ্বকাপের এই ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) আসলে কারা এবং কীভাবে নির্ধারণ করেন?
ধারাভাষ্যকার নন, ভাগ্যবিধাতা যখন সমর্থকেরা
সাধারণত ক্লাব ফুটবলে বা ঘরোয়া লিগগুলোতে ম্যাচসেরা নির্বাচনের দায়িত্ব থাকে ম্যাচ কমিশনার বা ধারাভাষ্যকারদের প্যানেলের ওপর। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপে এই নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ম্যাচসেরা কে হবেন, তা নির্ধারণে ধারাভাষ্যকারদের কোনো হাত নেই। পুরো বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকের ওপর।
ভোট দেওয়ার নিয়ম:
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার পর থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যায়, যা চলে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত। সমর্থকেরা সরাসরি ‘ফিফা প্লে জোন’ (FIFA Play Zone) অ্যাপ অথবা ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়কে ভোট দিতে পারেন।
যেহেতু শতভাগ ভোটের ওপর ভিত্তি করে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, তাই অনেক সময় মাঠের নিখুঁত পারফরম্যান্সের চেয়ে খেলোয়াড়ের বৈশ্বিক ‘জনপ্রিয়তা’ এখানে বড় ভূমিকা পালন করে বসে। ঘানা ম্যাচে বেলিংহামের পুরস্কার পাওয়াটাকেও অনেকে এই জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
শুরুটা যেভাবে, শীর্ষে যারা
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার আনুষ্ঠানিক পুরস্কার দেওয়ার এই রীতি খুব বেশি পুরোনো নয়। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে প্রথম এই পুরস্কারের প্রচলন শুরু হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচসেরার পুরস্কারটি বগলদাবা করেছিলেন সেনেগালের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড এল হাদজি দিউফ।
তবে এই পুরস্কারের ইতিহাসে সবার ওপরে যার নাম, তিনি লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরা হওয়ার বিশ্বরেকর্ডটি এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার দখলে। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিজের সেই রেকর্ডকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে বিশ্বকাপে নিজের মোট ম্যাচসেরার সংখ্যাকে ১৩-তে নিয়ে গেছেন এলএমটেন।
মেসির ঠিক পরেই আছেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে সিআরসেভেন ম্যাচসেরা হয়েছেন মোট ৭ বার।
সমর্থকদের ভোটে জনপ্রিয়তার এই লড়াইয়ে জুড বেলিংহামের মতো তরুণ তারকারা আগামীতে মেসি-রোনালদোকে ছুঁতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।