২৫ জুন, ২০২৬

নফসের বিরুদ্ধে আমার নীরব যুদ্ধ

নফসের বিরুদ্ধে আমার নীরব যুদ্ধ

প্রতিদিন আমি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করি।
সেই যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো মানচিত্র নেই,
কোনো সেনাবাহিনী নেই,
কোনো অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই।

তবুও এই যুদ্ধ পৃথিবীর সকল যুদ্ধের চেয়ে ভয়ংকর।

কারণ আমার প্রতিপক্ষ অন্য কেউ নয়
আমার নিজের নফস।

যে নফস আমাকে বারবার বোঝাতে চায়,
আমি অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
যে নফস আমার কানে ফিসফিস করে বলে,
"মানুষের প্রশংসাই তোমার প্রকৃত অর্জন।"
যে নফস আমার হৃদয়ে লুকিয়ে রাখে
অদৃশ্য অহংকারের বীজ।

আমি দেখেছি,
মানুষের পতন সবসময় পাপ দিয়ে শুরু হয় না
অনেক সময় তা শুরু হয় নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত উচ্চ ধারণা থেকে।

আত্মাশুদ্ধি তাই আমার কাছে কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়, বরং নিজের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহসের নাম।

যখন গভীর রাতে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়,
আমি আমার আত্মার দরজায় কড়া নাড়ি।
জিজ্ঞাসা করি

আজ আমি কাকে আঘাত করেছি?
কাকে অবহেলা করেছি?
কোন কাজটি মানুষের জন্য করিনি,
শুধু নিজের প্রশংসা পাওয়ার জন্য করেছি?

সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর সবসময় সুন্দর হয় না।
অনেক সময় আমি নিজের ভেতর এমন একজন মানুষকে আবিষ্কার করি,যাকে আমি অন্যদের সামনে কখনো প্রকাশ করি না।

সেখানেই শুরু হয় আত্মাশুদ্ধির পথ।
আত্মাশুদ্ধি মানে নিজেকে নিষ্পাপ প্রমান করা নয়
বরং নিজের অন্ধকারকে স্বীকার করা।

 

কারন যে মানুষ নিজের ভেতরের অন্ধকারকে অস্বীকার করে,সে কখনো আলো খুঁজে পায় না।

নফস একটি অদ্ভুত কারাগার।
এখানে শিকল দেখা যায় না,
কিন্তু স্বাধীনতাও অনুভব করা যায় না।

লোভ তার একটি দেয়াল,অহংকার আরেকটি,
হিংসা তৃতীয়টি,আর আত্মপ্রবঞ্চনা তার সবচেয়ে উঁচু প্রাচীর।

আমি সেই কারাগার ভাঙতে চাই।

মানুষকে দেখানোর জন্য নয়,ইতিহাসে নাম লেখানোর জন্য নয়,বরং নিজের আত্মাকে মুক্ত করার জন্য।

কারন আমি বিশ্বাস করি,একজন মানুষ পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত জয় করেও ব্যর্থ হতে পারে,
কিন্তু যদি সে নিজের নফসকে জয় করতে পারে,
তবে সে পরাজিত হয় না।

 

আজও আমি সম্পূর্ণ পবিত্র নই।
আজও ভুল করি,আজও দুর্বল হই,
আজও নফসের কাছে কখনো কখনো পরাজিত হই।

তবুও আমি থামি না।

কারন আত্মাশুদ্ধি কোনো গন্তব্য নয়
এ এক অনন্ত যাত্রা।

আর এই যাত্রার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো
এখানে প্রতিটি অনুশোচনা একটি নতুন সূচনা,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দু একটি নতুন জাগরন,
প্রতিটি তওবা একটি নতুন জন্ম।

তাই আমি নফসকে হত্যা করতে চাই না,
আমি তাকে সত্যের সামনে নত করতে চাই।

যেদিন আমার অহংকার বিনয়ের কাছে মাথা নত করবে,লোভ তৃপ্তির কাছে পরাজিত হবে,
আর ক্রোধ ক্ষমার কাছে আত্মসমর্পন করবে,

সেদিন হয়তো আমি বুঝতে পারব আত্মাশুদ্ধি আসলে নিজের ভেতরে হারিয়ে যাওয়া আলোকে
পুনরায় খুঁজে পাওয়ার নাম।


 

নিশিতা নাজনীন নীলা
Researcher | Writer | Social & Psychological Analyst
"মানুষকে বুঝতে চাই, তাই লিখি। সত্যকে খুঁজতে চাই, তাই গবেষণা করি।"

ঠিকানা: নবদ্বীপ,কাজিরহাট টু খোদ্দ রোড, বাংলাদেশ