সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনকে হুমকি ও তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘটনার মুখোমুখি হন বলে দাবি করেছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।
অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুল ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া তদারক করতে তিনি সেখানে যান। এ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজহারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হন। আবুল হোসেনের ভাষ্য, “মুকুল আমাকে দেখে তিরস্কার করেন এবং বাজে কথা বলে হেনস্তা করেন।”
শিক্ষা কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্দিষ্ট একজনকে শিক্ষক প্রতিনিধি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা বলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ পর্যন্ত শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবকও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। আব্দুল গনি নামের এক অভিভাবক জানান, আজহারুজ্জামান মুকুলের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি কারাভোগের পর তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্ত হয়ে আবার বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ করেন এই অভিভাবক। তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল পর্যন্ত মুকুল স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত ছিলেন এবং পরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মন্টু। তিনি বলেন, “সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিরোধিতা করা দুঃখজনক।” একাধিকবার কারাভোগ করার পরও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজহারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত বলেন, “সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ বা হুমকির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”