২১ জুন, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে ‘অসত্যবাদী’ বলায় সরকারি ও বিরোধী দলের হাতাহাতি পরিস্থিতি

প্রধানমন্ত্রীকে ‘অসত্যবাদী’ বলায় সরকারি ও বিরোধী দলের হাতাহাতি পরিস্থিতি

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ‘অসত্য’ বলার অভিযোগে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিদের মধ্যে তীব্র উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হইচইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) এনসিপি’র সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যের সূত্রপাত ও ঋণখেলাপিদের জমিদার তুলনা
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে বিরোধী দলের মিছিল নিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করছেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ তোলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছেন এবং তাদের ‘জমিদার’দের সাথে তুলনা করছেন।

হান্নান মাসউদের এই বক্তব্য দেওয়া শুরু করতেই সরকারি দলের বেঞ্চ থেকে তীব্র চিৎকার ও হইচই শুরু হয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান।

এক্সপাঞ্জের দাবি বনাম ফ্যাসিবাদের বিতর্ক
মাসউদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, সংসদ নেতাকে উদ্দেশ্য করে এমন অসত্য বাক্য বা কটূক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি অবিলম্বে এই বক্তব্য সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে ‘এক্সপাঞ্জ’ বা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

এর জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলেন, “সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের অবশ্যই আছে। আমরা দেশে গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই, কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরতে চাই না।”

পাল্টা জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিরোধী দলের এই আচরণকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “বিরোধী দলের সদস্য সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অসত্যবাদী বলেছেন, যা কোনো নিয়মের মাঝেই পড়ে না এবং এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি স্পিকারের কাছে বিতর্কিত অংশটুকু দ্রুত এক্সপাঞ্জ করার জোর দাবি জানান।

‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ’
একপর্যায়ে আবদুল হান্নান মাসউদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হলেও তিনি ফ্লোর না পেয়ে খালি গলায় মাইক ছাড়াই কথা বলা চালিয়ে যান। এতে সংসদের ভেতরে হট্টগোল আরও বৃদ্ধি পায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন:

“এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি পবিত্র জাতীয় সংসদ। এখানে সংসদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে কথা বলতে হবে।”

জল ঘোলা না করার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার
সংসদের পরিবেশ যখন চরম উত্তপ্ত, তখন পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য হস্তক্ষেপ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিষয়টি নিয়ে আর জল ঘোলা না করার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাইরের জবাব বাইরে দেওয়া হবে। সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়, এমন ঝগড়ায় আমাদের না যাওয়াই উত্তম।”

সবশেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যের বিতর্কিত অংশগুলো সংসদীয় কার্যবিবরণী দেখে বিচার-বিশ্লেষণ করে এক্সপাঞ্জ করার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।