নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় সড়কের পাশের একটি যাত্রী ছাউনিতে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী। আজ শুক্রবার বিকেলে খোলা আকাশের নিচে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে ওই নারীর এই পরিস্থিতির পেছনে দায়ী অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানা মোড়ের একটি যাত্রী ছাউনিতে এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে প্রসূতি মা ও নবজাতক সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই মানসিক প্রতিবন্ধী নারী গত ২-৩ বছর ধরে সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ ও চরজব্বর থানা সংলগ্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় ঘোরাফেরা করতেন। নিজের নাম-ঠিকানা বা পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে না পারা এই নারী কিছুদিন আগে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আজ বিকেলে হঠাৎ থানা মোড়ের যাত্রী ছাউনিতে প্রসববেদনায় ছটফট করতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান এবং সেখানেই তিনি একটি সুস্থ ছেলে সন্তান প্রসব করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছান উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সন্ধ্যার দিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সহায়তায় ওই মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনই আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন। এদিকে সন্তান প্রসবের পর স্থানীয় এক নারী নবজাতকটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ওই নারীর মানসিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কোনো বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে, যার ফলে তিনি গর্ভবতী হন। এলাকাবাসী এই জঘন্য অপরাধের পেছনের ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, "বিকেলে থানা মোড়ের যাত্রী ছাউনিতে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে দ্রুত সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাঁরা গিয়ে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। শিশুটির পিতৃপরিচয় শনাক্তে এবং এই ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করেছে।"