পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা এলাকায় এক নিঃসন্তান ব্যক্তির রেখে যাওয়া বসতভিটা ও স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে শরিকদের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এর জেরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, হুমকি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভার দক্ষিণ বোয়ালমারী গ্রামের বাসিন্দা আনসার আলী সম্প্রতি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর কোনো সরাসরি বা প্রথম স্তরের উত্তরাধিকারী না থাকায় এই বিপুল সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম পক্ষের হয়ে মৃত আনসার আলীর স্ত্রী রওশনারা খাতুন ও পালিত পুত্র দাবিদার হাসমত আলী একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে লিখিত বক্তব্যে তাঁরা দাবি করেন, আনসার আলীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁরাই বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়ি ও সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু ইদানীং অপর পক্ষটি জোরপূর্বক তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। মিথ্যা মামলা ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে প্রথম পক্ষের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে আজ শুক্রবার বিকেলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিপক্ষ দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন বলেন, "প্রকৃত ও বৈধ ওয়ারিশ মূলত আমরাই। প্রতিপক্ষ একটি ভুয়া দত্তক বা পালিত পুত্রের গল্প সাজিয়ে এবং জাল তথ্য দিয়ে প্রশাসন ও জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। কাগজের আইনগত ভিত্তি আমাদের পক্ষে রয়েছে।"
জানা গেছে, এই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর প্রশাসন সম্প্রতি তদন্ত সাপেক্ষে মৃত আনছার আলীর বৈমাত্রেয় (সৎ) ভাই-বোন ও তাঁদের সন্তানদের (যার মধ্যে দেলোয়ার হোসেনও রয়েছেন) অনুকূলে একটি ওয়ারিশান সনদ প্রদান করেছে। এই সরকারি সনদকে প্রধান হাতিয়ার করে দেলোয়ারের পক্ষ দাবি করছে, আইনগতভাবে তারাই এই সম্পত্তির আসল হকদার।
পাল্টাপাল্টি এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের দাবির সপক্ষে দলিল-দস্তাবেজ ও কাগজপত্র উপস্থাপন করেছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত এর সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।