নোয়াখালীর চাটখিলে পুকুরে সেচ দেওয়ার মোটরের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও তাঁর আট বছর বয়সী শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চোখের পলকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পরিবারটি যেমন স্তব্ধ, তেমনি পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাটখিল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়ানী টবগা গ্রামের মুনছুর মেম্বারের বাড়িতে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের খোকন চন্দ্র ঘোষের স্ত্রী অঞ্জনা রানী ঘোষ (৩৫) এবং তাঁর একমাত্র ছেলে রাহুল ঘোষ (৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে দুলাল চন্দ্র ঘোষসহ অংশীদারদের মালিকানাধীন একটি পুকুর থেকে মোটর দিয়ে পানি সেচের কাজ চলছিল। দুপুরে খেলার ছলে অসাবধানতাবশত মোটরের পাশে চলে যায় শিশু রাহুল। একপর্যায়ে মোটরের বিদ্যুতের তারে হাত দিলে সে গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এ সময় দূর থেকে সন্তানকে ছটফট করতে দেখে মা অঞ্জনা রানী ঘোষ কোনো কিছু না ভেবেই ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে যান। কিন্তু ছেলেকে স্পর্শ করার সাথে সাথেই তিনিও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে চাটখিল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, "সেচের মোটরের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
দুপুরের এই আকস্মিক বজ্রাঘাতের মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই পুরো চাটখিল পৌর এলাকায় শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ছয়ানী টবগা গ্রামের আকাশ-বাতাস।