১৯ জুন, ২০২৬

উল্লাপাড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের বলি হলো বজ্রপাত রোধক সরকারি তালগাছ

উল্লাপাড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের বলি হলো বজ্রপাত রোধক সরকারি তালগাছ

উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তা সংস্কার করতে গিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলা হলো প্রায় ২০টি বড় তালগাছ। ১০/১২ বছর আগে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কয়ড়া খামারপাড়া থেকে হোরগাঁতী পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের পাশে তালগাছগুলো রোপণ করেছিল। কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (টিআইসি) মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল (১৮ জুন) ও শুক্রবার সকালে এই কাজ চলাকালে গাছগুলো নিধন করা হয়। প্রকল্প কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ আমিরুল ইসলাম।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশের ফসলি জমি থেকে সহজে মাটি কাটার সুবিধার্থে এই তালগাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে পাশের মালিকদের ফসলি জমি গর্ত করে মাটি ফেলা হচ্ছে রাস্তায়। এতে একদিকে যেমন তালগাছ নিধন করা হচ্ছে, পাশাপাশি তাদের জমিরও ব্যাপক ক্ষতি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট রাস্তার পাশের জমির মালিক এরশাদ আলী, আব্দুল মমিন ও ইউসুব আলী অভিযোগ করেন, বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণে তালগাছগুলো লাগানোর ফলে তারা অনেকটা নিজেদের নিরাপদ মনে করতেন। কিন্তু এখন কাউকে কিছু না বলে গাছগুলো উপড়ে ফেলায় তারা হতাশ হয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের জমিতে অনেক গভীর খাল করে রাস্তায় মাটি নেওয়ায় জমিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত করে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোঃ আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি পদাধিকারবলে সভাপতি হলেও মূলতঃ এই কমিটির সদস্য কয়ড়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক (কোষাধ্যক্ষ) আবু বকর সিদ্দিক তার অনুসারীদের নিয়ে রাস্তার কাজ করছেন  তিনিই হয়তো গাছগুলো উপড়ে ফেলার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কয়ড়া ইউনিয়ন জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক (কোষাধ্যক্ষ) আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি সরাসরি কাজ করছি না। তবে কাজের তদারকি করছি। দীর্ঘদিন পরে এই রাস্তাটি উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছ। স্থানীয় লোকজনের সুবিধার জন্য তাদের মতামত নিয়ে বাধ্য হয়েই গাছগুলো উপড়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ হলে আবারও নতুন করে এখানে তালগাছ লাগানো হবে। তালগাছ উপড়ে ফেলার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

কয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, তিনি এক মাস ধরে এসেছেন। এটি পূর্বের প্রকল্প। তিনি রাস্তার উন্নয়নের বিষয়টি জানেন না। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত করা হবে।

বন বিভাগের উল্লাপাড়া উপজেলা কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান জানান, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গা থেকে কোনোভাবেই কোনো গাছ কাটার নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, ১০/১২ বছর আগে উক্ত রাস্তায় তার দপ্তর থেকে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে এসব তালগাছ রোপণ করা হয়। কোনভাবেই কেউ তালগাছগুলো উপড়ে ফেলতে পারে না। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।