১৮ জুন, ২০২৬

শ্লীলতাহানির গুঞ্জন, মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে শিক্ষক দম্পতি উধাও

শ্লীলতাহানির গুঞ্জন, মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে শিক্ষক দম্পতি উধাও

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার শরিফেরহাট হাজীপাড়া এলাকায় একটি মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমের (প্রধান শিক্ষক) বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার স্ত্রী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মুহতামিম আজিজুল হক উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের কুষ্টারী এলাকার বাসিন্দা। তিনি ও তার স্ত্রী মিলে শরিফেরহাট হাজীপাড়া এলাকায় ‘হাজীপাড়া আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ পরিচালনা করতেন এবং ওই মাদ্রাসা ভবনেই বসবাস করতেন।

শ্লীলতাহানির অভিযোগ ও তড়িঘড়ি মাদ্রাসা বন্ধ
স্থানীয় ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মাদ্রাসার হেফজ শাখার এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনার পরপরই তড়িঘড়ি করে সব শিক্ষার্থীর ছুটি ঘোষণা করে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই শিক্ষক দম্পতিকে আর এলাকায় দেখা যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটি বর্তমানে সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তারা অবিলম্বের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার ও ইউপি সদস্যের বক্তব্য তবে মুঠোফোনে শ্লীলতাহানির অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার মুহতামিম আজিজুল হক দাবি করেন,

“আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। একটি শিশুকে মূলত শাসন করা হয়েছিল, যা পরে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধানও হয়েছিল। কিন্তু এরপর কিছু কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর মাদ্রাসা বন্ধ করে তারা চলে যায়। পরে আজিজুল হকের বাবা এলাকায় এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেন। তবে ঘটনার মূল সত্যতা নিরূপণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত হওয়া উচিত।”

এ বিষয়ে চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, “এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”