কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই জেরে একপর্যায়ে গ্রামবাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে চিহ্নিত কয়েকজন মাদককারবারীর ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার রমনা ইউনিয়নের রমনা সরকার বাড়ি এলাকার মো. রিপন মিয়া, মো. ধলু মিয়া, রমনা ব্যাপারী পাড়ার মোহাম্মদ আলী, বজরা দিয়ার খাতা এলাকার মো. মিঠু মিয়া, মো. রঞ্জু মিয়া, মো. মুকুল মিয়া ও হালিম বাদশা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং চুরি-ছিনতাইসহ সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ও হামলা এই অবস্থায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কয়েকটি ঘরবাড়ি ও একজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রামবাসী জানান, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। অনেক পরিবার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভের জন্ম নিয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার ও প্রশাসনের বক্তব্য, তবে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের একজন হালিম বাদশা বলেন,
“নয়-দশ মাস ধরে আমি মাদক থেকে দূরে আছি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সঠিক নয়।”
রমনা মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, “ভাঙচুরের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অবস্থান ইতিবাচক হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”