১৮ জুন, ২০২৬

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মো. তাসিফ (৯) নামে আরও এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মোট তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত তাসিফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরমিতা গ্রামের আজাদ উদ্দিনের ছেলে।

নিউমোনিয়ার জটিলতা ও মৃত্যু
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে তাসিফকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। সে একই সঙ্গে মারাত্মক নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর থেকে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং সকাল সাড়ে ৯টায় সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

শয্যাসংকট ও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা
বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ১০৭ জন শিশু হামসহ নানা রোগে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৪ জন শিশু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ২টি আইসোলেশন সেন্টারে মাত্র ৪০টি শয্যা বা বেড রয়েছে। রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাকি শিশুদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এভাবে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে হাসপাতালে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মেঝের এক জায়গায় সব শিশু থাকায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হামে এবং হামে আক্রান্ত রোগীরা নতুন করে ডায়রিয়ায় সংক্রমিত হচ্ছে।

নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "শিশু তাসিফ গত ১৫ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টার ও শিশু ওয়ার্ডে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।"