নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘পার্টনার কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হুসনেয়ারা খাতুন। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্টনার প্রকল্পের রাজশাহী অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. আব্দুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আব্দুল আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা প্রসাদ ক্যালন রায়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহদী হাসান, স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৫টি কৃষক পার্টনার স্কুল গঠন
মূল প্রবন্ধে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ জানান, উপজেলার কৃষকদের আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক কৃষি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে ৩৫টি ‘কৃষক পার্টনার স্কুল’ গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ২৫ জন করে কৃষক সদস্য রয়েছেন। এসব স্কুলের মাধ্যমে উত্তম কৃষি চর্চা (GAP), ফল ও সবজি উৎপাদনের মানদণ্ড নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
টেকসই কৃষি ও পুষ্টি নিরাপত্তার প্রত্যয়
কংগ্রেসে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষির টেকসই উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ‘পার্টনার’ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রান্তিক কৃষকদের প্রথাগত চাষাবাদ থেকে বের করে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের দিকনির্দেশনামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিরা।