নোয়াখালীর সদর, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সাত ইয়াবাসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ। তিনি জানান, গত ১৭ ও ১৮ জুন জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে এই সাতজনকে আটক করা হয়।
দুই দিনের পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. বাদশা (৩০, সেনবাগ), ফখরুল ইসলাম রানা (২৮, সেনবাগ), কামাল উদ্দিন সুজন (৪০, সোনাইমুড়ী), লিটন মিয়া (৫৪, বেগমগঞ্জ), মো. শামীম হোসেন (২৭, লক্ষ্মীপুর সদর), জোবায়ের ব্যাপারী (২৩, রায়পুর), মোহন হোসেন (১৯, চন্দ্রগঞ্জ)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন সেনবাগের মতইন গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদশা ও ফখরুল ইসলাম রানাকে ইয়াবা সেবনের দায়ে আটক করা হয়। পরে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের সাজা দেন। একই দিন সোনাইমুড়ীর রথি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় কামাল উদ্দিন সুজনকে। সেখানে সোনাইমুড়ী ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাছরিন আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে, আজ ১৮ জুন সদর উপজেলার দত্তেরহাট-সোনাপুর এলাকায় পৃথক অভিযানে লিটন মিয়া, শামীম হোসেন, জোবায়ের ব্যাপারী ও মোহন হোসেনকে ইয়াবা সেবনের দায়ে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুকসুদুস সালেহীন, মোসাদ্দেক হোসেন এবং মো. সেজান আহম্মেদ পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন, "মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ কারবার রোধে জেলাজুড়ে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"