১৭ জুন, ২০২৬

বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় রোনালদোর পর্তুগাল

বিশ্বজয়ের অপেক্ষায় রোনালদোর পর্তুগাল

লিসবনের মেঘলা আকাশ ছেড়ে যখন পর্তুগালের বিমানটি বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে উড়াল দিল, ঘড়ির কাঁটায় তখন টুর্নামেন্ট শুরুর বাকি মাত্র এক দিন। অন্য সব পরাশক্তি যখন রণক্ষেত্রের শেষ মুহূর্তের মহড়ায় ব্যস্ত, রবার্তো মার্তিনেজের দল তখনো ব্যস্ত ছিল নিজেদের প্রতিটি বক্সে টিক মার্ক দিতে। এই দেরিতে আসা কোনো উদাসীনতা নয়, বরং এক শান্ত ঝড়ের পূর্বাভাস। এবার বিশ্বমঞ্চে ‘হেভিওয়েট’ তকমা নিয়ে হাজির হওয়া পর্তুগাল যেন এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে ভোরের প্রথম আলোর মতো জ্বলজ্বল করছে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অধরা বিশ্বকাপ ট্রফি।

টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া রোনালদো তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এত চটপটে, প্রতিভাবান ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড আগে কখনো পাশে পাননি। মাঠের চারপাশেই এখন রোমাঞ্চের বারুদ। দুই প্রান্তে নুনো মেন্দেস ও জোয়াও কানসেলোর মতো আধুনিক ফুটবলের সেরা ফুলব্যাক জুটি, উইংয়ে রাফায়েল লিয়াও কিংবা জোয়াও ফেলিক্সের গতির ঝড়—যেকোনো রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।

তবে এবারের পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের পারস্পরিক রসায়নে, যাকে বলা হচ্ছে ‘প্যারিস কানেকশন’। ২০১০ সালের স্পেন বা ২০১৪ সালের জার্মানির মতো, যাদের শক্তির ভিত ছিল বার্সেলোনা বা বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়রা; এবার মার্তিনেজ সেই চেনা সুর খুঁজে পেয়েছেন পিএসজির চার তারকা—ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, গনসালো রামোস ও নুনো মেন্দেসের মাঝে। বিশেষ করে পার্ক দে প্রিন্সেসের মাঝমাঠ শাসন করা ভিতিনিয়া-নেভেস জুটি যখন বল পায়ে ছন্দের জন্ম দেবেন, আর ব্রুনো ফার্নান্দেজ যখন আক্রমণের সুর বাঁধবেন, তখন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়া কেবলই সময়ের ব্যাপার।

স্কোয়াডের ২৭ নম্বর ফুটবলার:
কাগজের কলমে দল ২৬ জনের হলেও, পর্তুগাল এবার লড়বে ২৭ জন নিয়ে। সড়ক দুর্ঘটনায় অকালপ্রয়াত উইঙ্গার দিয়োগো জোতার নাম রয়েছে এই স্কোয়াডে। দেশ ছাড়ার আগে কোচ মার্তিনেজ আবেগঘন কণ্ঠে বলে গেছেন, ‘জোতা আমাদের অনুপ্রেরণা। ও সব সময় চাইত পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতুক। আমরা ওর সেই অপূর্ণ স্বপ্নটাই এবার পূরণ করতে যাচ্ছি।’

মুক্ত প্রভাতের সোনালী আলোয় দাঁড়িয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন এক পরম রোমান্টিক সমাপ্তির অপেক্ষায়। হাজার গোলের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিংবদন্তির শেষ বাজি, ডাগআউটে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় থাকা রবার্তো মার্তিনেজ এবং একজন অদৃশ্য যোদ্ধার স্বপ্ন—সব মিলিয়ে পর্তুগালের এবারের যাত্রা শুধু ট্রফি জয়ের নয়, এক মহাকাব্যিক অমরত্বের গল্প লেখার।