১৬ জুন, ২০২৬

দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যা ঘটেছে

দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যা ঘটেছে

দিল্লি বিমানবন্দরে নজিরবিহীন হেনস্তা ও অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গত রোববার বিকেল পাঁচটার পর এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁর সঙ্গে এই আচরণ করা হয়। সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় ইমিগ্রেশন ডেস্কে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন বিভাগ তাঁকে ‘ওয়াচলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে দেখায়। এমন চরম অপমানজনক পরিস্থিতির পর কূটনৈতিক প্রটোকলের চরম লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানান দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ইমিগ্রেশন ডেস্কে দীর্ঘ সময় কালক্ষেপণ দেখে হাইকমিশনার নিজেই হস্তক্ষেপে বাধ্য হন, যা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ইমিগ্রেশন ডেস্কে ১৫ মিনিটের নীরবতা ও জেরা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে নামার পর হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তথ্য উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে ইমিগ্রেশন ডেস্কে যান। সেখানে কর্তব্যরত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কম্পিউটারের স্ক্রিনে জাহেদ উর রহমানের ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করতে থাকেন, কিন্তু কোনো কথা বলছিলেন না।

প্রায় ১৫ মিনিট এভাবে কেটে যাওয়ার পর বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানতে চান, ‘কোনো সমস্যা আছে কি?’ কিন্তু ওই কর্মকর্তা সম্পূর্ণ নীরব থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি উপদেষ্টার জন্মস্থান এবং এর আগে তিনি ভারত সফর করেছিলেন কি না—তা জানতে চান। এরপর ডেস্ক থেকে উঠে ভেতরে চলে যান ওই কর্মকর্তা। ফিরে এসে তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টের প্রটোকল ভেঙে জাহেদ উর রহমানের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) এবং চোখের আইরিশ স্ক্যান নেন এবং তাঁকে সোফায় গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন।

'ওয়াচলিস্ট' নাটক ও ঢাকার কড়া সিদ্ধান্ত
ভিআইপি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে এমন আচরণ দেখে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। কয়েক দফা ফোনালাপের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জানানো হয় যে, ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগের নথিতে জাহেদ উর রহমানের নাম 'বারড' বা 'ওয়াচলিস্ট' (কালো তালিকা)-এ দেখানো হচ্ছে।

অপমান সয়ে প্রবেশ নয়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত
বিমানবন্দরে এমন কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও অবমাননাকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে জাহেদ উর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহলে যোগাযোগ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের ভাবমূর্তি ও আত্মসম্মান বজায় রাখতে তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে অনতিবিলম্বে দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

নাটকীয় 'ছাড়পত্র' ও পরিকল্পিত অপচেষ্টার অভিযোগ
উপদেষ্টা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর পাসপোর্ট ফেরত চান। অবস্থা বেগতিক দেখে এবং ঢাকার সর্বোচ্চ মহলের ক্ষোভের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ভারতীয় কর্মকর্তারা সুর নরম করেন। তাঁরা জানান, জাহেদ উর রহমানের 'ছাড়পত্র' হয়ে গেছে এবং তিনি এখন ভারতে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে আত্মসম্মান ও কূটনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা সেই প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করেন।

দিল্লির বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নাটকীয় ও অপমানজনক পরিস্থিতির সময় ইমিগ্রেশনে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের শত শত যাত্রী এবং সাধারণ বাংলাদেশিরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী হন। ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ‘অতীতের কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার’ জের ধরে জাহেদ উর রহমানকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোনো ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা ছিল এটি।