বিশ্বকাপের মঞ্চ যে রূপকথা লেখার জায়গা, ফুটবল বিশ্ব আজ রাতে তা আরও একবার প্রত্যক্ষ করল। কেউ কি কখনো ভেবেছিল, তারকায় ঠাসা একবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের আক্রমণভাগকে রুখে দেবে আফ্রিকার পুঁচকে এক দ্বীপদেশ? কিন্তু ফুটবল বিধাতা আজ অন্য এক ইতিহাস লিখে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে ফেবারিট স্পেনকে গোলশূন্য (০-০) ব্যবধানে রুখে দিয়েছে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দে!
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ ফুটবলারদের মুখে নেমে আসে ঘোর অমাবস্যা। অবিশ্বাস্য এই ড্রয়ের পর হতবাক স্পেনের খেলোয়াড়দের মুখের দিকে যেন তাকানোই যাচ্ছিল না। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ার আনন্দে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চ তো এখানেই!
৮০১ পাসের স্পেন বনাম ভোজিনিয়ার প্রাচীর
মাঠের লড়াইয়ে বল দখল কিংবা পাসিং—সবখানেই প্রত্যাশিত দাপট ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের। পুরো ম্যাচে স্পেনের ফুটবলাররা নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস্য ৮০১টি পাস খেলেছেন। কিন্তু ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দলের এই পাসিং ফুটবলের সুনামি থমকে গেছে ৬৪ নম্বর কেপ ভার্দের রক্ষণ আর গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক অতিমানবের কাছে।
ম্যাচের নায়ক গোলকিপার ভোজিনিয়া
কেপ ভার্দের এই অবিস্মরণীয় ড্রয়ের মহানায়ক তাদের অভিজ্ঞ গোলকিপার ভোজিনিয়া। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের একের পর এক বুলেটের মতো শট একাই প্রতিহত করেছেন তিনি। পুরো ম্যাচে চোখধাঁধানো ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনের নিশ্চিত জয় কেড়ে নেন এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে তাঁর চোখে দেখা যায় আনন্দের অশ্রু। দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উৎসবের লগ্নটা যে তাঁর বিশ্বস্ত হাত দুটিতে ভর করেই এসেছে!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ড্র?
মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার একটি দেশ, যারা ক্যামেরুনের মতো পরাশক্তিকে টপকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পেয়েছিল; প্রথম ম্যাচেই তারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিল। শক্তির বিচারে যেখানে স্প্যানিশ ‘নীল তিমির’ সামনে এই ‘নীল হাঙরদের’ স্রেফ উড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে মাঠের লড়াইয়ে বীরত্বের এক অনন্য নজির গড়ল তারা।
ফুটবল পণ্ডিতদের অনেকেই বলছেন, মাঠের শক্তির ব্যবধান ও জনসংখ্যার হিসাব বিবেচনায় নিলে এটি হয়তো বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও বিখ্যাত ড্রয়ের একটি হয়ে থাকবে। কেপ ভার্দের এই লড়াকু ফুটবল রূপকথা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবে বহু বছর।