১৪ জুন, ২০২৬

পাহাড়ের টানে দূর্জয় বড়ুয়া: সুরের ভুবনে প্রকৃতির আহ্বান

পাহাড়ের টানে দূর্জয় বড়ুয়া: সুরের ভুবনে প্রকৃতির আহ্বান

কখনো মেঘের ভেলায় ভেসে যাওয়া পাহাড়চূড়া, কখনো ঝরনার অবিরাম কলকল ধ্বনি, আবার কখনো সবুজের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ—প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য যেন বারবার ডেকে নেয় সংগীত শিল্পী দূর্জয় বড়ুয়াকে। ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহল ছেড়ে তিনি যখন পাহাড়ের কাছে যান, তখন যেন খুঁজে পান নিজের ভেতরের আরেকটি জগৎ; যে জগতের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি অনুভূতি রূপ নেয় সুরে, গানে আর শিল্পে।

চট্টগ্রামের পটিয়ার সন্তান দূর্জয় বড়ুয়া। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ। তবে সংগীতচর্চার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি তার রয়েছে এক অদ্ভুত টান, আর সেই টানের কেন্দ্রবিন্দু পাহাড়।

দূর্জয়ের কাছে পাহাড় কেবল ইট-পাথরের পৃথিবী থেকে দূরে কোনো ভ্রমণস্থল নয়; বরং এক নীরব শিক্ষক, এক গভীর অনুভূতির ঠিকানা। পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ, দূর আকাশের নীলিমা আর বনভূমির নিস্তব্ধতা তাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। সেই ভাবনার রং মিশে যায় তার কণ্ঠে, তার গানে, তার সৃষ্টিতে।

দূর্জয় বড়ুয়া বলেন, “পাহাড়ে গেলে মনে হয় পৃথিবীটা একটু ধীর হয়ে গেছে। চারপাশের নীরবতা আমাকে নিজের সঙ্গে কথা বলতে শেখায়। তখন অনেক অজানা সুর, অনেক অপ্রকাশিত অনুভূতি মনের ভেতর জেগে ওঠে।”

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলো তার কাছে যেন এক অনন্ত আকর্ষণের নাম। রাঙামাটির নীল জলরাশি, বান্দরবানের মেঘছোঁয়া পাহাড় আর খাগড়াছড়ির সবুজ উপত্যকা তাকে বারবার ডেকে নেয়। প্রকৃতির এই অপরূপ রূপের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান জীবনের সরলতা, মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং শিল্পের গভীরতম অনুপ্রেরণা।

যেখানে শহরের ব্যস্ততা মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে, সেখানে পাহাড় দূর্জয় বড়ুয়ার কাছে প্রশান্তির এক আশ্রয়। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃতির কাছাকাছি না গেলে শিল্প কখনো পূর্ণতা পায় না। কারণ প্রকৃতিই মানুষের অনুভূতিকে সবচেয়ে নির্মলভাবে স্পর্শ করতে পারে।

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে যখন মেঘ এসে ছুঁয়ে যায় মুখ, কিংবা সূর্যাস্তের রঙে রাঙা হয়ে ওঠে আকাশ, তখন সেই মুহূর্তগুলো তার কাছে হয়ে ওঠে একেকটি জীবন্ত গান। আর সেই গানই একদিন পৌঁছে যায় শ্রোতার হৃদয়ে।

সুরের মানুষ দূর্জয় বড়ুয়ার কাছে পাহাড় তাই কেবল প্রকৃতির একটি অংশ নয়; এটি এক আবেগ, এক নেশা, এক অনন্ত প্রেমের নাম। যে প্রেম তাকে বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় সবুজ পাহাড়ের কাছে, যেখানে নীরবতার মাঝেও বাজতে থাকে অদৃশ্য কোনো বাঁশির সুর, আর জন্ম নেয় নতুন নতুন গানের গল্প।

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় দুই সংগীতশিল্পী দীপ্র বড়ুয়া ও দূর্জয় বড়ুয়া-কে গরুর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিল্পীপ্রেমী ও সচেতন মহল মনে করছে, একজন মানুষের খাদ্যাভ্যাস তার ব্যক্তিগত অধিকার ও পছন্দের বিষয়। এ ধরনের বিষয়কে কেন্দ্র করে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, ধর্মীয় উসকানি দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালানো অনভিপ্রেত এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলেন, শিল্পীরা সমাজের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সংস্কৃতির ধারক। তাদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা প্রয়োজন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।