নাটোরের গুরুদাসপুরের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে সিলেটের কানাইঘাটে একটি ‘মিথ্যা ও সাজানো’ মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ঘটনার দিন আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পুলিশ বাদীর পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জারগড় গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজা চৌধুরী (৪০) বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্বামী রূপালী ব্যাংক পি এল সি,সিলেট ডিভিশনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার) কামরুল ইসলাম ও দেবর কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ আবুল কালামসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঈষান্বিত হয়ে অসুস্থ্য বৃদ্ধ শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোলায়মান আলী (৭০) ও শ্বাশুড়ি মোছা. কৌহিনুর বেগমকেও (৬০) আসামি করা হয়। তারা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা। এখনো তারা অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে আসামিপক্ষের দাবি, মামলার আরজিতে ঘটনাস্থল হিসেবে সিলেটের কানাইঘাটের মির্জারগড় গ্রামকে উল্লেখ করা হলেও। মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। ঘটনার দিন ও সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী ও তার স্ত্রী নাটোরে এবং অন্য আসামিরা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আসামিদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সেই সময়ের অবস্থান (লোকেশন) যাচাই করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আসামিদের দূরবর্তী অবস্থানের এমন অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নেননি। উল্টো মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বাদিপক্ষের হয়ে আদালতে একটি একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে এভাবে দূরবর্তী জেলার একটি মিথ্যা মামলায় জড়ানোয় স্থানীয় সচেতন মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী জানান, "ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তিগত তথ্য (সিডিআর) যেখানে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করে, সেখানে পুলিশের এমন তদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানাব।"
অন্যদিকে, তদন্তে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানায়, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে; তবে আদালত চাইলে যেকোনো পক্ষ এর বিরুদ্ধে নারাজি বা পুনঃতদন্তের আবেদন করতে পারেন।