১৪ জুন, ২০২৬

ড্র করেও স্বস্তি নেই ব্রাজিলের, ‘৭-১’ এর ভূত দেখছেন সমালোচকরা

ড্র করেও স্বস্তি নেই ব্রাজিলের, ‘৭-১’ এর ভূত দেখছেন সমালোচকরা

বিশ্বকাপের মঞ্চে ম্যাচটা হারেনি ব্রাজিল, মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় সেলেসাও সমর্থকদের মুখগুলো ছিল মলিন। সেই মলিনতা শুধু মরক্কোকে হারাতে না পারার ক্ষোভ থেকে নয়, বরং মাঠে ব্রাজিলের জঘন্য ও ছন্নছাড়া ফুটবল খেলার ধরনে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেভাবে চেনা যাচ্ছিল না, তা রূপ নিয়েছিল এক চরম হতাশায়।

৩২ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোল ছাড়া প্রথমার্ধের বাকিটা সময় ব্রাজিল ফুটবল যেন পথ হারিয়ে ফেলেছিল। ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র কলামিস্ট ফার্নান্দো কালাস তো এই ম্যাচকে তুলনা করেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে। তাঁর মতে, জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়া সেই অভিশপ্ত ম্যাচের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট কেটেছে এই মরক্কো ম্যাচের প্রথমার্ধেই।

পরিসংখ্যানের আয়নায় ‘দিশাহারা’ ব্রাজিল
জার্মানির বিপক্ষে সেই সেমিফাইনালে প্রথমার্ধে ৫ গোল হজম করেছিল ব্রাজিল। এবার হয়তো মরক্কো গোলবন্যা বইয়ে দিতে পারেনি, তবে আক্রমণের তীব্রতায় ব্রাজিলকে রীতিমতো পিষে ফেলেছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর মরক্কোই মাত্র দ্বিতীয় দল, যারা ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের গোলমুখে ৫টি বিষাক্ত শট নিতে পেরেছে। মাঠের ভেতর তিতের উত্তরসূরিদের তখন মনে হচ্ছিল দিকভ্রান্ত পথিকের মতো।

কাঠগড়ায় আনচেলত্তির ‘অটো চয়েস’ ও জঘন্য পারফরম্যান্স
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের ফুটবল বিশ্লেষকদের ক্ষোভের আগুনে পুড়ছেন কয়েকজন তারকা ফুটবলার। কলামিস্ট কালাসের মতে, ডিফেন্সে ইবানিয়েন্ত, মাঝমাঠে কাসেমিরো এবং আক্রমণে ইগর থিয়াগো অত্যন্ত জঘন্য ফুটবল খেলেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "আমার ধারণা, ইবানিয়েন্ত ও ইগরকে পরের ম্যাচে সাইডবেঞ্চেই বসে থাকতে হবে।" এমনকি রাফিনিয়ার মতো তারকাকেও কেন 'অটো চয়েস' হিসেবে খেলানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরেক কলামিস্ট গুস্তাভো পোলি তো সরাসরি কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল নির্বাচন নিয়েই তোপ দেগেছেন। পোলির দাবি, আনচেলত্তি এখনো ব্রাজিলের সেরা একাদশই খুঁজে পাননি। ইগর থিয়াগোকে নামানো হয়েছিল প্রতিপক্ষের ওপর প্রেস করার জন্য, কিন্তু বল পায়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং ম্যাচের একমাত্র সহজ সুযোগটিও নষ্ট করেছেন হেলায়।

স্বস্তি ফিরিয়েছেন বদলি ফুটবলাররা
প্রথমার্ধের সেই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্থে ব্রাজিল যে কিছুটা ছন্দে ফিরেছিল, তার পুরো কৃতিত্বই বদলি খেলোয়াড়দের।

ফাবিনিও: মাঠে নেমেই মাঝমাঠের লাগাম টেনে ধরেন। কাসেমিরোর চেয়ে বহুগুণ ভালো ফুটবল উপহার দিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য ফেরান তিনি।

দানিলো: এই ডিফেন্ডার উইংয়ে আসার পর ব্রাজিলের আক্রমণের ধার এক লাফে অনেক বেড়ে যায়।

পাকেতা: শুরুটা যাচ্ছেতাই করলেও সময়ের সাথে সাথে নিজেকে ফিরে পান এই মিডফিল্ডার।

হাইতি ম্যাচের অপেক্ষায় সমর্থকরা ড্রয়ের চেয়েও খেলার ধরনে সমর্থকদের মনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা শুকানোর সুযোগ দ্রুতই পাচ্ছে ব্রাজিল। আগামী ২০ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। কার্লো আনচেলত্তি কি পারবেন তাঁর সেরা একাদশ খুঁজে নিয়ে হাইতির বিপক্ষে চেনা সাম্বা ফুটবলের পসরা সাজাতে? উত্তর জানতে অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।