এক জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ জনশক্তি সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে শিক্ষা খাতে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইতিহাসের অন্যতম বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিপুল ব্যয়ের এই বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বড় ব্যবধান থাকায় বিশাল ঘাটতি পূরণের চ্যালেঞ্জও থাকছে সরকারের সামনে।
সরকার এবার দক্ষ মানবসম্পদ গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে শিক্ষা খাতের এই বিশাল বরাদ্দে:
রেকর্ড বরাদ্দ: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।
তুলনামূলক চিত্র: গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৮৭,২০৬ কোটি টাকার তুলনায় এবার বরাদ্দ একলাফে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো ও গুণগত মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপস্থাপিত বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেটের মূল আর্থিক সূচকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| খাত | বরাদ্দের পরিমাণ (টাকা) |
|---|---|
| বাজেটের মোট আকার | ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি |
| রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা | ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি |
| সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি | ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি |
⚠️ ঘাটতি অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বাজেটের আকার যেমন বিশাল, তেমনি এর ঘাটতি পূরণের পথটিও বেশ জটিল। ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার মূলত দুটি উৎসের ওপর ভরসা করছে: ১. অভ্যন্তরীণ ঋণ (দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র) ২. বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান
অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ: বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও সামাজিক খাতের এই বিপুল বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ফল দেবে। তবে স্বল্পমেয়াদে এই বিশাল ঋণনির্ভর অর্থায়ন কাঠামো দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।