নাটোরের গুরুদাসপুরে নিজ শয়নকক্ষ থেকে জাহেরা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সোনাবাজু গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জাহেরা বেগম ওই গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের সহধর্মিণী। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘিরে এলাকায় চরম রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বৃদ্ধার শয়নকক্ষের মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের ছেলে জাকের হোসেন জানান, তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমের চিকিৎসার খরচ জোগাতে স্থানীয় সুদে কারবারি আলাল, খবির ও হাশেমের কাছ থেকে তিনি ৩ লাখ টাকা সুদে ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই তিন সুদে কারবারি টাকার জন্য তাঁর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। এমনকি প্রতিনিয়ত বাড়িতে এসে টাকা পরিশোধ না করলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হতো।
জাকের আরও জানান, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে আজ সন্ধ্যার দিকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বাড়ি ফিরে আসেন। ঘরে ঢুকে শয়নকক্ষের মেঝেতে তাঁর মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সুদের টাকার বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
তবে এটি সুদের টাকার জেরে হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"