পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নতুন নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে পর্যায়ক্রমিকভাবে আধুনিকায়ন করছে।
আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গৌরবোজ্জ্বল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিবছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হলেও এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে আজ ১০ জুন এটি উদযাপিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতিসংঘ মিশনে শহীদ শান্তিরক্ষীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শহীদদের পরিবার ও আহতদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বীরত্ব ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করে বলেন, “শত প্রতিকূলতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। দেশের ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি নিয়োজিত আছেন এবং হাইতিতে একটি নতুন মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি গর্বের সাথে উল্লেখ করেন।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক আখ্যায়িত করে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস, যা কোনোভাবেই ম্লান হতে দেওয়া যাবে না।”
বক্তব্যে অতীত ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর যে সর্বগ্রাসী আঘাত (পিলখানা হত্যাকাণ্ড) এসেছিল, তার ক্ষত সবার জানা। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “পেশাদারত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।”
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিদেশের মাটিতে সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।