৯ জুন, ২০২৬

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ: সিংড়ার শিক্ষক আজিজের ৯ লাখ টাকার স্বপ্ন

ইউটিউব দেখে আঙুর চাষ: সিংড়ার শিক্ষক আজিজের ৯ লাখ টাকার স্বপ্ন

বিদেশি রসালো ফল আঙুর এখন আর সুদূর মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের একচেটিয়া ফসল নয়; সঠিক পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশের মাটিতেও যে এর বাম্পার ফলন সম্ভব, তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন নাটোরের এক স্কুলশিক্ষক। শখের বসে ইউটিউব দেখে শুরু করা তার এই উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনায়। মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে তার বাগানের থোকায় থোকায় ঝুলছে বাহারি জাতের আঙুর, যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে স্থানীয়দের।

ব্যতিক্রমী এই আঙুর বাগানটি গড়ে তুলেছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষি শিক্ষক আব্দুল আজিজ। ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি টান থাকা এই শিক্ষক এর আগে পটল, ড্রাগন ও আপেল কুল চাষে সফল হয়েছিলেন। তবে এবার তিনি বাজিমাত করেছেন আঙুর চাষে।

শখ থেকে ৯ লাখ টাকার বাণিজ্য
আজিজ জানান, শুরুতে মাত্র চারটি ‘বাইকুনুর’ জাতের চারা বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেছিলেন। প্রথমবারেই একটি গাছ থেকে প্রায় ৭-৮ কেজি আঙুর পান তিনি। এই অভাবনীয় সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাড়ির পাশের প্রায় ১ বিঘা পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের মহোৎসব শুরু করেন তিনি।

চলতি মৌসুমে বাজার দর ঠিক থাকলে এই বাগান থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছেন এই শিক্ষক।

বাগানে দুলছে ৫ জাতের বিদেশি আঙুর
শিক্ষক আব্দুল আজিজের ১ বিঘার এই বাগানে এখন ঝুলছে চোখ ধাঁধানো পাঁচ জাতের আঙুর। জাতগুলো হলো:

বাইকুনুর * সামার রয়েল

ডিক্সন

গ্রিন লং * ব্ল্যাক ম্যাজিক

প্রতিটি গাছেই এখন রঙের মেলা। থোকায় থোকায় ঝুলতে থাকা সবুজ, কালো আর মেরুন রঙের আঙুর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক মানুষ ও স্থানীয় কৃষকেরা। অনেকেই নিজের বাড়িতে চাষের জন্য আজিজের কাছ থেকে চারা ও পরামর্শ সংগ্রহ করছেন।

"শুরুতে এটা স্রেফ একটা শখ ছিল। কিন্তু এখন দেখছি সঠিক পরিকল্পনা আর বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচর্যা করলে আমাদের দেশের মাটিতেও আঙুরের বাণিজ্যিক চাষ পুরোদমে সম্ভব।"
— শিক্ষক আব্দুল আজিজ

কৃষি বিভাগের মূল্যায়ন
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান জানান, শিক্ষক আব্দুল আজিজ প্রমাণ করেছেন যে বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু আঙুর চাষের জন্য উপযুক্ত। বিশেষ করে বাইকুনুর ও ডিক্সন জাতের ফলন এ অঞ্চলে বেশ আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তরুণরা এগিয়ে এলে দেশের ফলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এটি একটি লাভজনক খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

শুধুমাত্র অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ইউটিউবের সঠিক ব্যবহার যে একজন মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার এক জীবন্ত রূপকার এখন শিক্ষক আব্দুল আজিজ। তার হাত ধরে নাটোরের সিংড়ায় বোনা এই আঙুর চাষের স্বপ্ন আগামী দিনে দেশের ফল উৎপাদনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।