নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর প্রধান পৌর বাজারে অভিযান চালিয়ে ১৪২ কেজি বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত চিংড়ি মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ওজনে কারচুপি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এই অপরাধের দায়ে দুই অসাধু মাছ ব্যবসায়ীকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীরের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাইজদী পৌর বাজারের কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় চিংড়ি মাছে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিষাক্ত জেলি পুশ করে কৃত্রিমভাবে ওজন বাড়িয়ে বিক্রি করছেন—এমন একটি সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। এই তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে বাজারটিতে আকস্মিক হানা দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে বাজারের মাছ বিক্রেতা ইসমাইল ও বাহারের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে তাদের চিংড়িতে ক্ষতিকর জেলির অস্তিত্ব হাতেনাতে ধরা হয়। পরে তাদের হেফাজত থেকে ১৪২ কেজি বিষাক্ত জেলি মিশ্রিত চিংড়ি জব্দ করে তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন ও জনস্বার্থবিরোধী এই কর্মকাণ্ডের অপরাধে দুই ব্যবসায়ীর প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডিত ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ি মাছের ওজন বাড়াতে বিষাক্ত জেলি ব্যবহার করছিল, যা মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণা রোধে জেলা প্রশাসনের এমন ঝটিকা অভিযান নিয়মিত জারি থাকবে।"
অভিযান পরিচালনাকালে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মানস মণ্ডল, মাইজদী পৌর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম মুক্তা এবং আনসার ব্যাটালিয়নের একদল সদস্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।