৭ জুন, ২০২৬

হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে ফেলে আ.লীগ নেতাকে হত্যার চেষ্টা: অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা

হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে ফেলে আ.লীগ নেতাকে হত্যার চেষ্টা: অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাকে ট্রলার থেকে ধাক্কা দিয়ে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর ঘাটে থাকা স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের তৎপরতায় অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ওই নেতার নাম অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ। তিনি হাতিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং হাতিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে ‘পরিকল্পিত’ হামলা
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ জেলার বসুরহাট পৌরসভা এলাকায় তাঁর ছেলের শ্বশুরবাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত খাওয়া শেষে সপরিবারে হাতিয়া ফেরার উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ঘাটে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেরি চলাচল সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেখে তিনি ঘাটে এলেও সেখানে এসে জানতে পারেন যে রাতের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অগত্যা তিনি হাতিয়ায় পৌঁছানোর জন্য ঘাট থেকে একটি সাধারণ ট্রলার ভাড়া করেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের নিরাপদে ট্রলারে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজে যখন ট্রলারে উঠতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পেছন থেকে ওত পেতে থাকা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় তিনি সরাসরি রাতের অন্ধকার মেঘনা নদীতে তলিয়ে যান। এই আকস্মিক ঘটনায় ঘাট এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাইফউদ্দিন নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কয়েকজন যুবক তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্লোগান ও হইহুল্লোড় করতে করতে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

গামছা ছুড়ে বাঁচালেন স্থানীয়রা
নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তীব্র স্রোতের মুখে ছাইফউদ্দিন কিছুক্ষণ ভেসে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এ সময় ঘাটে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে নিজের গামছাটি নদীর পানিতে ছুড়ে দেন। ছাইফউদ্দিন সেই গামছাটি শক্ত করে ধরে পানির ওপরে টিকে থাকতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয় জেলেরা ও ঘাটের অন্য লোকজন দ্রুত আরেকটি নৌকা নিয়ে এসে তাঁকে নদী থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী আ.লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফউদ্দিন আহাম্মদ দাবি করেন, "এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ট্রলারে ওঠার সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে গভীর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তায় আমি আজ প্রাণে বেঁচে ফিরেছি।" এই নগ্ন হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলে তিনি জোরালো অভিযোগ তোলেন।

লিখিত অভিযোগ পায়নি পুলিশ
এই বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, "বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা দেখেছি। তবে ঘটনার মূল সত্য-মিথ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"