৭ জুন, ২০২৬

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: নোয়াখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৭

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: নোয়াখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৭

নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সুধারাম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গত দুই দিনে চিরুনি অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত নেতকর্মীসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ রোববার (৭ জুন) মামলার এজাহারভুক্ত ২৪ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আকস্মিক এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং প্রধান সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। জনাকীর্ণ বাজারে নিষিদ্ধ সংগঠনের এই আকস্মিক মহড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়ে ওঠে। সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর শুক্রবার দিবাগত রাতেই মূল এজাহারনামীয় ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শনিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, "নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় এ পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

এদিকে, শুক্রবারের এই ঝটিকা মিছিলের রেশ ধরে শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক অফিস ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, পাল্টা জবাবে বিএনপি কর্মীদের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই রণক্ষেত্রে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।