ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে জনসংখ্যাগত কাঠামোর পরিবর্তন ও অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তীব্র আপত্তি ও দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে রাজধানী অঞ্চল ইটানগরের ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ সম্পূর্ণ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ (এপিআইওয়াইও) নামের একটি স্থানীয় আদিবাসী যুব সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের পর প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়। অনুপ্রবেশ বন্ধ ও অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে সংগঠনটি এর আগে রাজধানী অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার প্রতীকী হরতাল পালন করেছিল এবং দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পিডি সোনা জানান, চলতি বছরের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সঙ্গে আদিবাসী ছাত্রনেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আসে। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন রাজধানী কমপ্লেক্স এলাকায় একটি বিশেষ জরিপ চালায় এবং ১৫টি অননুমোদিত মসজিদের অস্তিত্ব শনাক্ত করে।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রশাসন প্রথমে ১২টি মসজিদ সিলগালা করে। পরবর্তীতে গত ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আরেকটি জরুরি ফলোআপ বৈঠকের পর বাকি ৩টি মসজিদও সিলগালা ও খালি করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় আদিবাসী উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজ্য কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে অরুণাচল প্রদেশের উন্মুক্ত আন্তঃরাজ্য এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে মে মাসে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সভাপতিত্বে ছাত্র সংগঠন, উপজাতীয় সমাজ এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজ্যে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকারের বিশেষ ব্যবস্থা বা ‘ইনার লাইন পারমিট’ (আইএলপি) ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জটি কেবল অরুণাচলের একার নয়, এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, আইএলপি ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা সরকারি বিভাগ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকেই উপজাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষা করা যায়।