গত বছরের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেওয়া যমজ দুই ভাই—আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও আবদুল্লাহ আল নোমান—ছিল পরিবারের আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু। বড় বড় চোখের ফুটফুটে দুই শিশুকে নিয়ে ছিল বাবা-মায়ের হাজারো স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেয় হাম।
হারুনুর রশিদ বলেন, “স্বজন, বন্ধুবান্ধব, এনজিও—কারও কাছে হাত পাততে বাকি রাখিনি। ছেলেদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচাতে পারলাম না।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চে প্রথমে ফাহিমের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে তার হাম শনাক্ত হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরই মধ্যে অপর যমজ নোমানের শরীরেও হামের উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষার পর তারও হাম ধরা পড়ে।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। গত ২২ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নোমানের মৃত্যু হয়। ভাইয়ের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ফাহিম। মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পরিবেশ। স্বজনদের ভিড়ের মাঝেও নির্বাক বসে ছিলেন মা ইসরাত জাহান। ঘরের ভেতরে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিশু দুটির মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
একসময় যে ঘর যমজ দুই ভাইয়ের হাসি-কোলাহলে মুখর ছিল, আজ সেখানে শুধুই নীরবতা। দুই সন্তানের স্মৃতি আর চিকিৎসার ঋণের বোঝা নিয়ে দিন পার করছেন তাদের বাবা-মা। এই ঘটনা আবারও শিশুদের টিকাদান ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।