২৯ মে, ২০২৬

পশ্চিমায় জনপ্রিয়তায় ধস, ভারতের ‘অভাবনীয়’ সমর্থনে আশ্বস্ত নেতানিয়াহু

পশ্চিমায় জনপ্রিয়তায় ধস, ভারতের ‘অভাবনীয়’ সমর্থনে আশ্বস্ত নেতানিয়াহু

গাজা ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে যখন তীব্র সমালোচনা আর আইনি বৈধতার সংকটে পড়েছে ইসরায়েল, তখন দূর প্রাচ্যের এক বৃহৎ শক্তির ওপর ভরসা রাখছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের জনপ্রিয় ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বিশ্বের অনেক দেশে ইসরায়েলের নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভারতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৪০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার ভারতে ইসরায়েল এবং তিনি নিজে ‘অবিশ্বাস্য রকমের’ জনপ্রিয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।

ভারতে ‘ভালোবাসার উৎসব’ ও মোদি প্রসঙ্গ
পশ্চিম তীরের একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু ভারতকে একটি ‘বৃহৎ শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এখনও এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে ইসরায়েলকে অত্যন্ত সম্মান করা হয়। ভারত তার অন্যতম বড় উদাহরণ। আমার মনে হয়, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ভারত থেকেই আমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের আন্তরিকতার কথা স্মরণ করে নেতানিয়াহু বলেন, মোদিকে তাঁদের দেশে যেভাবে বরণ করা হয়েছিল তা ছিল অনন্য। পাশাপাশি ২০১৮ সালে নিজের স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুকে নিয়ে ভারত সফরের অভিজ্ঞতাকে ‘ভালোবাসার উৎসব’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারতীয়দের হৃদয়ে ইসরায়েলের জন্য এক অনন্য ও চিরস্থায়ী জায়গা রয়েছে।

মার্কিন মুলুকে জনপ্রিয়তায় ধস: পিউ রিসার্চের তথ্য
নেতানিয়াহু যখন ভারতের অকুন্ঠ সমর্থন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই তাঁর সবচেয়ে বড় সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু বিরোধী তীব্র মনোভাব।

সূচক (মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মতামত)                   গত বছর                                   চলতি বছর (এপ্রিলের জরিপ)



ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা                                 ৫৩%                                         ৬০%



নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতা                           ৫২%                                         ৫৯%


জরিপের এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, পশ্চিমা জনমত ক্রমশ ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। খোদ মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশই এখন বৈশ্বিক যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর ওপর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।

দায় চাপালেন পাকিস্তান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর
পশ্চিমা বিশ্বে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের এবং ইসরায়েলের এই ভাবমূর্তি সংকটের জন্য সরাসরি চিরবৈরী পাকিস্তান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাকে দায়ী করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তাঁর অভিযোগ, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাকিস্তানের বিভিন্ন আইটি সেল এবং ব্যবহারকারীরা পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। এই ডিজিটাল প্রচারণাই আমেরিকার তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মনে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নৈতিক বৈধতাকে খর্ব করার চেষ্টা করছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে যখন যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েল কোণঠাসা, তখন ভারতের মতো একটি বিশাল বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক মিত্রের জনসমর্থনকে হাতিয়ার করে নিজেদের বৈধতা টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।