২৯ মে, ২০২৬

জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল: ক্ষোভে মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করল তেল আবিব

জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল: ক্ষোভে মহাসচিবের কার্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিত করল তেল আবিব

যুদ্ধক্ষেত্র ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলকে ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থার এমন নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেল আবিব। প্রতিবাদস্বরূপ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কার্যালয়ের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত ঘোষণা করেছে ইসরায়েল।

আজ শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে ইসরায়েলি কারা (আইপিএস) কর্তৃপক্ষকে এই কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির আরও বেশ কয়েকটি সংস্থাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। এক বিবৃতিতে তিনি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলে দাবি করেন।

জাতিসংঘের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড্যানন বলেন, "জাতিসংঘের মহাসচিব ইসরায়েলকে হামাস এবং আইএসআইএসের (আইএস) মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। এটি জাতিসংঘের চরম নৈতিক অবক্ষয় এবং সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতার কফিনে শেষ পেরেক।"

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বর্বরতা, ধর্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ তোলে মিডল ইস্ট আইসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা। এসব অভিযোগের ওপর দীর্ঘ তদন্ত ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পরেই ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

সাধারণত প্রতি বছর সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতায় জড়িত থাকার দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সংস্থাকে এই তালিকায় চিহ্নিত করা হয়। তবে এবার কোনো পশ্চিমা মিত্র দেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য ও চরম সংঘাতের রূপ নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।