ফুটবলবিশ্বের বুকে আচমকাই যেন একটা থমথমে হাওয়া বয়ে গিয়েছিল। ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে তখন গোলবন্যার ম্যাচ। ম্যাচের ৭০ মিনিটে ফ্রি-কিক নেওয়ার পরই আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে দেখা গেল বাঁ ঊরুর ওপরের অংশে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে। ৭৩ মিনিটে যখন তিনি নিজেই বদলির আবেদন জানিয়ে মাঠ ছাড়ছেন, তখন কোটি ভক্তের মনে জেগে উঠেছিল একটাই প্রশ্ন—তবে কি বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বড় কোনো চোটে পড়লেন এলএমটেন?
তবে সোমবার (২৫ মে) রাতে সেই জমাট বাঁধা মেঘ কেটে গেছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থক ও ইন্টার মায়ামি ভক্তদের জন্য স্বস্তির বার্তা পাঠিয়েছে ক্লাবটির মেডিক্যাল টিম।
চোট নয়, শুধুই ক্লান্তি
মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে ইন্টার মায়ামি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেসির চোট গুরুতর কিছু নয়। বাম হ্যামস্ট্রিংয়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ এবং ক্লান্তিজনিত সমস্যার কারণেই মূলত তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন। মাঠ ভারী থাকায় কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিতেই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আলবিসেলেস্তেদের কোচিং স্টাফরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, আগামী ১ জুন সোমবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে দলের সাথে নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দেবেন অধিনায়ক।
মাঠের লড়াই ও টেবিলের সমীকরণ
মেসি যখন মাঠ ছাড়েন, ম্যাচের স্কোরবোর্ড তখন ৪-৪ সমতায় ঝুলছিল। তবে অধিনায়কের বিদায়ের পর যেন মায়ামির খেলোয়াড়রা বাড়তি তাগিদ অনুভব করলেন। শেষ পর্যন্ত ফিলাডেলফিয়াকে ৬–৪ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে মাঠ ছাড়ে ইন্টার মায়ামি। এই মহানাটকীয় জয়ের পর মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ইস্টার্ন কনফারেন্সে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে ক্লাবটি।
"মেসি খুবই ক্লান্ত ছিল, আর মাঠও বেশ ভারী ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও আমরা ঝুঁকি নিই না। তাই তাকে তুলে নেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।"
— গিলের্মো হয়োস, কোচ, ইন্টার মায়ামি
লক্ষ্য এবার বিশ্বমঞ্চ
আগামী ১১ জুন থেকে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় পর্দা উঠছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞের। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মিশন শুরু হবে ১৬ জুন, প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। এখনো দল ঘোষণা না হলেও দলের প্রাণভোমরা মেসিকে ঘিরেই যে স্কালোনির সব পরিকল্পনা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এই ক্লান্তিজনিত বিরতি মেসিকে আরও সতেজ হয়ে মাঠে ফিরতে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস ফুটবল বোদ্ধাদের।