২৬ মে, ২০২৬

মেঘনার বুকে রূপালী চমক: সমির মাঝির জালে ৩৩ কেজির জোড়া কোরাল, বিক্রি ৪৬ হাজারে

মেঘনার বুকে রূপালী চমক: সমির মাঝির জালে ৩৩ কেজির জোড়া কোরাল, বিক্রি ৪৬ হাজারে

নদীর বুক জুড়ে তখন দুপুরের চড়া রোদ। মেঘনার চেনা ঢেউয়ের টানে জাল গুটিয়ে আনছিলেন নোয়াখালীর হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের শুল্লকিয়া গ্রামের সমির মাঝি। কিন্তু টান দিতেই বুঝলেন, এবারের ভার অন্যরকম। জলের নিচে রূপালী আঁশের যে ঝিলিক দেখা গেল, তা এক নিমেষেই দূর করে দিল মাঝির ক্লান্তি। একে একে নৌকায় উঠল বিশাল আকৃতির দুটি কোরাল মাছ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় এই মাছ দুটিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ওজন মেপে দেখা যায়, মাছ দুটির সম্মিলিত ওজন পুরো ৩৩ কেজি!

আড়তে ডাকের ঝড়
দুপুরের পর মাছ দুটি যখন উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাটের 'সুমি ফিস এজেন্সি' আড়তে নিয়ে আসা হয়, তখন চারপাশ থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক জনতা। শুরু হয় উন্মুক্ত নিলাম বা ডাক।

আড়ত মালিক নাজিম মোল্লা জানান, মেঘনার সুস্বাদু ও তাজা কোরালের চাহিদা সবসময়ই চড়া। ডাকের এক পর্যায়ে মাছ দুটির দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। ৩৩ কেজি ওজনের মাছ দুটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ২০০ টাকা। চেয়ারম্যান ঘাটেরই এক স্থানীয় ব্যবসায়ী মাছ দুটি কিনে নেন।

মেঘনার বিরল উপহার
হাতিয়ার সূখচর ইউনিয়নের পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীতে সাধারণত এই আকারের কোরাল (ভেটকি) মাছ সহজে ধরা পড়ে না। জোয়ার-ভাটার এই নদীতে বড় কোরালের দেখা পাওয়া জেলেদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় বলেই মনে করা হয়।

"নদীতে অনেক সময় বড় মাছের দেখা মিললেও, একসাথে এত বড় দুটি কোরাল পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। সমির মাঝির এই প্রাপ্তি অন্য জেলেদেরও আশাবাদী করে তুলবে।"
— স্থানীয় এক প্রবীণ মৎস্যজীবী।

নেটদুনিয়ায় ভাইরাল
মাছ দুটি আড়তে তোলার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে তুমুল উত্তেজনা দেখা যায়। অনেকেই এত বড় মাছ এর আগে সামনাসামনি দেখেননি। মুহূর্তের মধ্যেই মাছ দুটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা এখন নেটিজেনদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলছে।

মেঘনার বুক থেকে উঠে আসা এই রূপালী জোড়া কোরাল যেমন সমির মাঝির মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়েছে, তেমনি ঘাটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিয়েছে এক পশলা আনন্দ।