বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই পরম সম্মানের। তবে খুব কমসংখ্যক খেলোয়াড়ই ফিফা বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক—এই দুই মহোৎসবের মঞ্চেই খেলার সুযোগ পান। আর দুটি মঞ্চেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা? ফুটবল ইতিহাসে সেটি এক অনন্য ও বিরল কীর্তি।
আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। এই আসন্ন আসরের আগপর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় মাত্র ১৫ জন পুরুষ খেলোয়াড় এই অনন্য ডাবল (বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক সোনা) জয়ের কীর্তি গড়েছেন। যার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে (১৯Post-1945) এই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন মাত্র দুজন খেলোয়াড়। রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, এই দুজনই আর্জেন্টিনার—লিওনেল মেসি এবং আনহেল দি মারিয়া।
মেসি-দি মারিয়ার সেই রূপকথা
২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে ফুটবলের ফাইনালে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। সেদিন আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের জয়ে লিওনেল মেসির পাস থেকেই জয়সূচক গোলটি করেছিলেন আনহেল দি মারিয়া। এর ঠিক ১৪ বছর পর, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচেও কাণ্ডারি ছিলেন এই দুই মহাতারকা।
মেসি ও দি মারিয়া ছাড়া ফুটবল ইতিহাসের বাকি ১৩ জন কীর্তিমান কারা? চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা:
ইতালির চার সারথি
১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে সোনা জিতেছিল ইতালি। এর ঠিক দুই বছর পর ১৯৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ইতালির সেই সোনালী প্রজন্মের চার ফুটবলার অলিম্পিক ও বিশ্বকাপ—দুটিই জেতার স্বাদ পেয়েছিলেন। তাঁরা হলেন:
সের্হিও বের্তোনি
আলফ্রেদো ফোনি
উগো লোকাতেল্লি
পিয়েত্রো রাভা
উরুগুয়ের ঐতিহাসিক ‘নয়’ জন
ফুটবল ইতিহাসে অলিম্পিক ও বিশ্বকাপ দুই মঞ্চেই রাজত্ব করার সবচেয়ে বড় কীর্তিটি উরুগুয়ের। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উরুগুয়ে। তবে তার আগেই তারা বিশ্বকে নিজেদের জানান দিয়েছিল ১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক এবং ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে সোনা জিতে। উরুগুয়ের ইতিহাসের এই সোনালী সময়ের ৯ জন ফুটবলার অলিম্পিক সোনা এবং বিশ্বকাপ ট্রফি—দুটিই ছুঁয়ে দেখার গৌরব অর্জন করেন। এই বিশেষ তালিকায় আছেন:
হোসে লেয়ান্দ্রো আন্দ্রাদে
এক্তর কাস্ত্রো
পেদ্রো সেয়া
লোরেনসো ফের্নান্দেস
আলভারো হেস্তিদো
হোসে নাসাসি
পেদ্রো পেত্রোনে
এক্তর স্কারোনে
সান্তোস উরদিনারান
ফুটবলের আধুনিক যুগে যেখানে ঠাসা সূচি আর অলিম্পিক ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের নিয়ম (তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় বাদে), সেখানে মেসি ও দি মারিয়ার এই ক্লাবটিতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো ফুটবলার নাম লেখাতে পারেন কি না—তা সময়ই বলে দেবে।