বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের একটি সভা ডাকা হয়েছিল। তবে ব্যাংকটির গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশের আন্দোলনের মুখে সভাটি বাতিল করা হয়। আন্দোলনকারীরা প্রধান কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নিয়ে চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেন এবং একই সঙ্গে এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার জন্য আহ্বান জানান। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চেয়ারম্যান তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। অবশ্য পর্ষদ সভা বাতিল হওয়ায় এমডির পদত্যাগপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিতর্কিত এস আলম গ্রুপকে সরিয়ে ইসলামী ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তৎকালীন গভর্নর অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরের মেয়াদে অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমানকে স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তবে সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং নতুন গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের নীতিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরে অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান। পাশাপাশি এমডি ওমর ফারুক খানকে ও ছুটিতে পাঠানো হয়, যা গত ১২ এপ্রিল ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছিল।
সার্বিক বিষয়ে জানতে অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুক খানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংকটে ইসলামী ব্যাংক:
২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে এসে মাত্র ১৩৭ কোটি টাকায় নেমেছে।
একই সময়ে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালে ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা যেখানে ছিল ৬৩ শতাংশ, তা চলতি বছরের (২০২৬) মার্চ মাসে কমে মাত্র ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাং