ছাদকৃষির গাছ থেকে মাত্র দুটি আম পাড়ার অপরাধে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মো. আবদুল্ল্যাহ (১২) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন শিশুকে আটকে রেখে অমানবিক ও বর্বর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার শিশুটির ক্ষতবিক্ষত শরীরের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভবন তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরনবী (৬২) মোবাইল ফোন বন্ধ করে পলাতক রয়েছেন।
গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসটার্মিনাল সংলগ্ন সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভবনের চারতলার ছাদে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নুরনবী উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি ওই ভবনের মালিক সাবেক ডিসি ইসমাইলের ভায়রা এবং ভবনটির দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশু আবদুল্ল্যাহ মানসিক ভারসাম্যহীন। বিগত ৬-৭ মাস আগে সে হঠাৎ বসুরহাট বাসটার্মিনাল এলাকায় চলে আসে। এরপর থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যুবদলের সদস্য সচিব মাইনুল ইসলাম নাঈমসহ কয়েকজন মিলে শিশুটির খাওয়া-দাওয়া ও দেখভাল করে আসছিলেন।
মাইনুল ইসলাম নাঈম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশু আবদুল্ল্যাহ খেলার ছলে ওই ভবনের ছাদে উঠে ছাদকৃষির একটি গাছ থেকে দুটি আম পাড়ে। এটি দেখে ভবনের কেয়ারটেকার নুরনবী ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে ধরে ফেলেন এবং লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, শিশুটিকে একটি কক্ষে রাতভর আটকে রেখে দফায় দফায় অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। শনিবার সকালে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হলে সে কাঁদতে কাঁদতে স্থানীয়দের কাছে আসে। তখন তার পিঠ, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত ও কালশিটে দাগ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. নুরনবীর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবং তিনি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় এই বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “একটি প্রতিবন্ধী ছেলে দুটি আম পাড়ায় তাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অত্যন্ত অমানবিক ও অতিরিক্ত মারধর করা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত নুরনবীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”