২৩ মে, ২০২৬

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়ি-দোকানে হামলা, গ্রেপ্তার ৪

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়ি-দোকানে হামলা, গ্রেপ্তার ৪

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাথাইলহাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি সমর্থকদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলার বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ শনিবার দুপুরে এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসী ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সাঁথিয়া উপজেলার পাথাইলহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত মার্চ মাসে বিএনপি সমর্থকদের দোকান ভাঙচুরের একটি মামলায় আসামিরা জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সর্বশেষ গত শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে প্যান্ডেল সাজানো নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে নতুন করে বাগ্‌বিতণ্ডা ও দ্বন্দ্ব বাঁধে। এর জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজনকে সংগঠিত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় জামায়াত নেতা হযরত আলীর (হযরত মাস্টার) নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল বাহিনী বিএনপি কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। তারা বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারপিট করার পাশাপাশি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় গ্রামের নারীদের শ্লীলতাহানি ও নানা রকম হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর রাতেই পুলিশ সাঁথিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামি হযরত মাস্টারসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে এই হামলার ঘটনায় নিজের বা দলের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

সাঁথিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে পাথাইলহাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।