গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার বিভাগে ঘটে যাওয়া নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির জট খুলতে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে হওয়া সব দুর্নীতি এই কমিটির আওতায় আসবে। তবে এই তদন্ত শুরুর আবহেই তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে সচিবালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত।
শনিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিস্ফোরক এক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিয়ম ভেঙে, সংশ্লিষ্ট সচিবের কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই একটি বড় প্রকল্পের ফাইল জোরপূর্বক অনুমোদন দিয়েছেন—যা সম্পূর্ণভাবে ‘রুলস অব বিজনেস’ ও দাপ্তরিক আইনের পরিপন্থী।
প্রতিমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও জমজমাট রূপ নেয় সন্ধ্যায়। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘ ২৪ মিনিটের এক লাইভে এসে প্রতিমন্ত্রীর তোলা অভিযোগকে ‘অমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে একটি ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা
লাইভে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আমলাতান্ত্রিক ফাইলের সাধারণ গতিপথ ব্যাখ্যা করে বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা হয়তো মাত্র তিন মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছেন, তাই ফাইল পাসের পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো বুঝে উঠতে পারেননি। একটি ফাইল নিচের স্তর থেকে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠে। সচিবের স্বাক্ষর বা তাঁর অগোচরে কোনো ফাইল মন্ত্রীর টেবিলে আসা তো দূরের কথা, পাস হওয়াও অসম্ভব।”
সচিবের অনুপস্থিতির আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় সচিব বিদেশে বা ছুটিতে থাকলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো অতিরিক্ত সচিব রুটিন দায়িত্ব পালন করেন এবং ফাইলে সই করেন। এটি আইনি ও প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ বৈধ। প্রতিমন্ত্রী কোন ফাইলের কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করা দরকার।”
‘আগামীকালের মধ্যে ফাইল দেখান’
বক্তব্যের শেষাংশে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমি মিস্টার শাহে আলম এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চ্যালেঞ্জ করছি—যদি আপনাদের সৎ সাহস থাকে, তবে আগামীকাল রোববারের মধ্যে সেই সুনির্দিষ্ট ফাইলটি জনগণের সামনে এনে দেখান। কোথায় বেআইনি কী হয়েছে, তা বিশেষজ্ঞ এনে যাচাই করান। তা না হলে ধরে নেওয়া হবে, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার জন্যই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এখন দেখার বিষয়, সাবেক উপদেষ্টার এই ২৪ ঘণ্টার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জের জবাবে মন্ত্রণালয় সেই বহুল আলোচিত ফাইলটি প্রকাশ করে কি না।