রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দাখিল করে মামলার নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি জানান, ডিএনএ রিপোর্ট পেতে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।
তিনি আরও বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া চার্জশিট দিলে বড় ধরনের ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিচার শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া ঈদের আগেই সম্পন্ন করা হবে এবং ঈদের পর বিচার কার্যক্রম শুরু করতে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দেবে।
নেত্রকোণার মেঘলা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাতেও প্রয়োজনীয় সব বিচারিক প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। শিশু ধর্ষণের মামলায় উচ্চ আদালতের পেপারবুক দ্রুত প্রস্তুতের জন্য বিশেষ অনুমতি চাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিগত সরকারের সময়ে গুমের শিকার পরিবারগুলোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমবিরোধী আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকার আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা দেবে—আইনে উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
দেশে ঝুলে থাকা মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আপসযোগ্য প্রায় ৮০ শতাংশ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। আগামী তিন মাসের মধ্যে সারা দেশে ৫০ হাজার মামলা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো আইন বৈষম্য সৃষ্টি করলে তা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।