নোয়াখালী সদর উপজেলায় এক ইউনিয়ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) ভুল চিকিৎসায় ও দায়িত্বে চরম অবহেলায় মাহিয়া আক্তার (৫) নামের এক হাম আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার করমুল্যা বাজারের একটি ফার্মেসিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহিয়া উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়া বাড়ির মো. করিমের মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. সিরাজুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) হিসেবে কর্মরত এবং করমুল্যা বাজারে তাঁর একটি ব্যক্তিগত ফার্মেসি রয়েছে।
মোবাইল ফোনে চিকিৎসায় অবহেলার চরম রূপ
নিহত শিশুর মামা মো. মুরাদ জানান, গত রোববার মাহিয়ার শরীরে হালকা জ্বর দেখা দিলে তার মা কামরুন নাহার শিশুটিকে করমূল্যা বাজারে সিরাজ ইসলামের ফার্মেসিতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে মঙ্গলবার মাহিয়ার মুখে ঘা দেখা দিলে সিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে অভিজ্ঞ দাবি করে আরও কয়েকজন হাম আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাহিয়ার মা পুনরায় শিশুটিকে ওই ফার্মেসিতে নিয়ে যান। কিন্তু সে সময় স্যাকমো সিরাজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি মোবাইল ফোনে কল করে পাশের দোকানের এক সাধারণ ব্যক্তিকে মাহিয়ার শরীরে স্যালাইন পুশ করার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়াই এভাবে স্যালাইন দেওয়ার পর মাহিয়ার মা তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরপরই শিশুটির তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত মাইজদীর মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মামা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন স্যাকমোর কোনোভাবেই হাম রোগের মতো জটিল বিষয়ের চিকিৎসা করার সুযোগ নেই। অথচ তিনি জোর দিয়ে চিকিৎসা করেছেন এবং ফোনে অন্য লোককে দিয়ে স্যালাইন পুশ করিয়েছেন। আমরা অভিযোগ করলে ময়নাতদন্তের নামে লাশ কাটাছেঁড়া হবে ভেবে প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দিইনি।”
অভিযুক্তের দায় অস্বীকার, খোঁজ নেওয়ার আশ্বাস সিভিল সার্জনের
এদিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন অভিযুক্ত স্যাকমো মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, “শিশুটির হাম হয়েছে জানার পর আমি তার পরিবারকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য লিখিত পরামর্শ দিয়েছিলাম। আজ (বৃহস্পতিবার) যখন তাকে ফার্মেসিতে আনা হয়, আমি চেম্বারে ছিলাম না। পরে চিকিৎসা দেওয়ার পর শিশুর অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে শুনেছি।” তবে অনুপস্থিত থেকে ফোনে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে স্যালাইন পুশ করানোর বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এই বিষয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কোনো পল্লী চিকিৎসক বা স্যাকমো কোনোভাবেই হাম আক্রান্ত শিশুর এমন সংবেদনশীল চিকিৎসা করতে পারেন না। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে গণমাধ্যমের মারফত বিষয়টি জানতে পেরেছি, আমরা পুরো ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”