২১ মে, ২০২৬

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে নোয়াখালীতে ক্ষোভ: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দাবি

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে নোয়াখালীতে ক্ষোভ: দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসির দাবি

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ও তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষ। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নরপশুদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি এবং দেশজুড়ে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে জেলা শহরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে ‘সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এই ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ব্যানার-প্লেকার্ড হাতে এই মানববন্ধনে অংশ নেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার এমন জঘন্য অপরাধ
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জেঁকে বসার কারণেই একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। রামিসার পরিবারের এই বুকফাটা আর্তনাদ ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে হতাশা আমাদের পুরো সমাজ ব্যবস্থার ব্যর্থতারই স্পষ্ট প্রতিফলন। বক্তারা অবিলম্বে এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে খুনিদের ফাঁসি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন. নারী অধিকার জোটের সভাপতি লায়লা পারভীন, বিশিষ্ট নারীনেত্রী বিবি মরিয়ম, উন্নয়নকর্মী ফারজানা তিথি, স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন নূর ও অমিত পালসহ আরও অনেকে।

বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চরম সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে অপরাধীরা বারবার এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। এই ধরনের আদিম বর্বরতা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে ব্যথিত এবং আতঙ্কিত করে তোলে।

বক্তাদের প্রধান দাবি: "রাষ্ট্রকে অবিলম্বে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় আইনের ফাঁক গলে খুনিরা পার পেয়ে গেলে এই ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।"

প্রশাসনের প্রতি ৩ দফা জোরালো আহ্বান
মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বক্তারা তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি ও পরামর্শ তুলে ধরেন:

আইনের কঠোর প্রয়োগ: অপরাধী যেই হোক, তাকে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে নজিরবিহীন শাস্তি দিতে হবে যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধের সাহস না পায়। সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা: সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবার থেকে নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে। সম্মিলিত দায়িত্ব: কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়; নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়তে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনতা রামিসা হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের রেহাই দেওয়া হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।