২১ মে, ২০২৬

নোবিপ্রবিতে হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র: শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

নোবিপ্রবিতে হলের দেয়ালে আপত্তিকর চিত্র: শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) হযরত বিবি খাদিজা হলের দেয়ালে কুরুচিপূর্ণ ছবি আঁকা এবং বহিরাগত নির্মাণ শ্রমিকদের দ্বারা ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগে গভীর রাতে বিক্ষোভ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২০ মে) রাত ১১টার দিকে হলের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে রাত ১২টার দিকে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
দেয়ালে কুরুচিপূর্ণ চিত্র: হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে হলের ছাদ সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজের শেষ দিনে নিয়োজিত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদের দেয়ালে একটি আপত্তিকর ও অশোভন ছবি আঁকেন। বুধবার সকালে বিষয়টি প্রথম শিক্ষার্থীদের নজরে আসে।

শ্রমিকদের উত্যক্তকরণ: শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু এই চিত্রকর্মই নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই হলের কাজে নিয়োজিত কিছু বহিরাগত শ্রমিক ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিত অশোভন ইঙ্গিত ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে আসছিলেন।

এই ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা হলের নিরাপত্তা জোরদার, দোষী শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ জানান, সকালে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানানোর পরপরই প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো শ্রমিককে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ছবিটি দেয়াল থেকে মুছে ফেলা হয় এবং সকালে সাময়িকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ শুরু করলে প্রশাসন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রভোস্ট আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যেখানে পরবর্তী আইনি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।