২১ মে, ২০২৬

আইনি প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় সরকার

আইনি প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় সরকার

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত এনে মামলার মুখোমুখি করতে চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানানো হলো।

১. শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ও ভারতের সিএএ ইস্যু
আনুষ্ঠানিক অনুরোধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন (প্রত্যর্পণ) চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের পর থেকে তিনি নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের সিএএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ)’ কার্যকর হওয়াকে ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। তবে আসামের এনআরসি বা সিএএ-র জেরে সীমান্তে যেন কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ ইন) না ঘটে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

২. চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
মিরপুরে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ (প্রতিরোধমূলক) ও ‘রি-অ্যাক্টিভ’ (তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা) উভয় পদ্ধতিতে কাজ করছে।

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে:

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যা মামলা।

কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যাকাণ্ড।

মে মাসের শুরু থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইড চলছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁওয়ে বিশেষ অভিযানে ১০৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

৩. আবেগতাড়িত হয়ে আইন সংস্কার নয়
আইন সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, আইনকে সময়ের চাহিদানুযায়ী যুগোপযোগী করা হবে, তবে সাময়িক ক্ষোভের বশে আবেগতাড়িত হয়ে চটজলদি আইন প্রণয়ন বা বিশেষ আদালত গঠন করা সমীচীন নয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন কোনো ‘অবিচার’ বা কঠোর আইনের অপব্যবহার না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।