ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। নিজেদের উৎপাদিত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। দেশটির নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় মনোভাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি প্রক্রিয়াকরণকে এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনের পাঠানো সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে ইরান।
পরমাণু কর্মসূচি ও নিরাপত্তার সমীকরণ
চুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রধান বিরোধের জায়গাটি হলো ইরানের পরমাণু সক্ষমতা। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানকে তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে। তবে সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, এই ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই বিদেশে পাঠানো যাবে না।
সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউরেনিয়াম হাতছাড়া করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় ধরনের সামরিক হামলার শিকার হতে পারে তেহরান। বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি।
ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ শেষে গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দুই পক্ষ মাত্র একবার মুখোমুখি বৈঠকে বসলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হামলার হুমকি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা চুক্তির জন্য ইরানের জবাবের অপেক্ষা করছি। তবে বিশ্বাস করুন, সঠিক জবাব না পেলে খুব শিগগিরই আবারও হামলা শুরু হবে। আমরা প্রস্তুত।"
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানও সুর নরম করেনি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেরি জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া জবাবটি বিশ্লেষণ করছেন। তবে রুশ গণমাধ্যমের কাছে এক ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের কাছে এমন কিছু অত্যাধুনিক গোপন অস্ত্র রয়েছে, যা এর আগের যুদ্ধে কখনোই ব্যবহার বা পরীক্ষা করা হয়নি।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
চলমান এই চরম উত্তেজনা ও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এড়াতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। দুই পক্ষের মধ্যকার মতবিরোধ কমিয়ে একটি টেকসই সমঝোতার পথ তৈরি করতে তিনি দ্রুতই তেহরান সফরে যাচ্ছেন।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ট্রাম্পের সামরিক চাপ এবং অন্যদিকে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের ইউরেনিয়াম ধরে রাখার জেদ—এই দুইয়ের মাঝে পাকিস্তান কতটা সফলভাবে মধ্যস্থতা করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ শান্তি।