ভারত ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি পুনর্নবীকরণের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শুরু হতে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) ৯০তম বৈঠক। তিন দিনব্যাপী এই বৈঠকটি চলবে আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের এটাই শেষ বৈঠক, যা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবারই কলকাতায় পৌঁছেছে।
মাঠ পর্যায়ে পানি পরিমাপ ও বৈঠকের সূচি
বৈঠকের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার সকালেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি মুর্শিদাবাদে রওনা হয়েছে। সেখানে যৌথ নদী কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ফারাক্কা পয়েন্টে নেমে সরাসরি গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। মাঠ পর্যায়ের এই পরিদর্শন শেষে শুক্রবার প্রতিনিধি দলটি কলকাতায় ফিরে আসবে। শুক্র ও শনিবার কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মূল আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দুই দেশের প্রতিনিধি দলে কারা আছেন?
বাংলাদেশ পক্ষ: বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আনোয়ার কবির। দলে আরও রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এবং কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মোহাম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।
ভারত পক্ষ: ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তরের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার।
এক নজরে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট ফর্মুলায় পানি বণ্টন করা হয়:
| গঙ্গার পানির প্রবাহ (কিউসেক) | বাংলাদেশের প্রাপ্য | ভারতের প্রাপ্য |
|
৭৫,০০০ বা তার বেশি |
অবশিষ্ট সব পানি | ৪০,০০০ কিউসেক |
| ৭০,০০০ থেকে ৭৫,০০_ | ৪০,০০০ কিউসেক | অবশিষ্ট সব পানি |
| ৭০,০০০ বা তার কম | সমান অংশ (৫০%) | সমান অংশ (৫০%) |
বিশ্লেষকদের মতে: যেহেতু এই শুষ্ক মৌসুমের পরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাই এবারের ৯০তম বৈঠকটি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।