নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক অসহায় হিন্দু বিধবা নারীকে গভীর রাতে নৃশংসভাবে হত্যার চেষ্টা এবং কান কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। এই বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে চর ঈশ্বর ইউনিয়নের রাজের হাওলা গ্রামে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত মানববন্ধনে দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজের হাওলা গ্রাম।
পৈশাচিক বর্বরতা ও তাসের রাজত্ব
প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগী ও চিকিৎসাধীন অসহায় বিধবা নারী টটি বালা দাস (৬১) উপস্থিত থেকে ঘটনার রাতের সেই লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
"একজন অসহায়, স্বামীহীন বয়োবৃদ্ধ হিন্দু নারীর ঘরে গভীর রাতে সিঁধ কেটে বা দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে এভাবে হত্যার চেষ্টা করা এবং গহনা কেড়ে নিতে গিয়ে কান কেটে ফেলার মতো নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এই সন্ত্রাসীরা এলাকায় এক 'তাসের রাজত্ব' কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।"
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা
সমাবেশ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে এই পৈশাচিক হামলার সাথে জড়িত মূল হোতা ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সাথে, হাতিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বসবাসরত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।